ইসরাইল ছাড়ো, নয়তো সম্পর্ক: বিয়ে সংক্রান্ত মুসলিমবিদ্বেষী আইন নবায়ন

মাহমুদ উল্লাহ্‌

0
1053
ইসরাইল ছাড়ো, নয়তো সম্পর্ক: বিয়ে সংক্রান্ত মুসলিমবিদ্বেষী আইন নবায়ন

ইসরাইলি দখলদারদের কারণে নিজ দেশেই আজ পরাধীন ফিলিস্তিনের মুসলিমরা। ফিলিস্তিনী মুসলিমদের ভূমি দখল করে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করেছে ইহুদী সন্ত্রাসীরা। আর সেখানেই কিনা বসবাসের অনুমতি নেই পশ্চিমতীর ও গাজার মুসলিম ফিলিস্তিনিদের।

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিকদেরকে বিয়ে করে এক সময় সেখানে থাকার সুবিধা ও নাগরিকত্ব পেতেন তারা। তবে ২০০৩ সালে বিতর্কিত আইনে তা আটকে দেয় ইসরাইল।

বিয়ে নিয়ে ইসরাইলের বর্ণবাদী আইন নবায়ন হয়েছে দেশটির কথিত পার্লামেন্টে। ওই আইনে পশ্চিমতীর বা গাজা থেকে বিয়ে করে ফিলিস্তিনিদের আনতে পারবে না আরব বংশোদ্ভূত মুসলিম নাগরিকরা। ২০০৩ সাল থেকে এ আইন বাস্তবায়ন হয়ে আসছে।
বিতর্কিত এ আইনের মূল বক্তব্য ইসরাইল ছাড়ো, নয় তো সম্পর্ক। উদ্দেশ্য, বিতাড়িত মুসলিমরা ফিলিস্তিনিরা যাতে নিজ ভূখণ্ডে ফিরতে না পারে।

আইনটি তখন অস্থায়ীভাবে পাস হয়। পরবর্তীতে প্রতি বছর নবায়ন করা হচ্ছে এই আইন। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবারও আইনটি নবায়ন হয়েছে। ১২০ সদস্যের ইসরাইলি পার্লামেন্টে পক্ষে ভোট ৪৫টি, বিপক্ষে ১৫, ভোট দেয়নি ৬০ আইনপ্রণেতা।

ইসরাইলের জনসংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ। ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। তারা পশ্চিমতীর বা গাজার ফিলিস্তিনিদের বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রীকে আনতে পারেন না। এখন তাদের ইসরাইল ছাড়তে হবে, নয়তো সম্পর্ক! সিরিয়া, লেবানন, জর্ডানের ক্ষেত্রেও তাই। তাদের শত্রু রাষ্ট্র ভাবে ইসরাইল। গাজা, পশ্চিমতীর থেকে কাউকে আনলে ’রাষ্ট্রদ্রোহ বা সন্ত্রাসবিরোধী’ কথিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি আইনজীবী খালেদ জাবারকা বলেন, এ ধরনের আইন সরকারের সঙ্গে পার্লামেন্টকেও বর্ণাবাদী বলে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা বহাল রাখার জন্যই এ আইন। আরবদের অস্তিত্বে আঘাতই এ আইনের লক্ষ্য।

বিশ্লেষকগণ বলছেন, ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে প্রাণ বাঁচাতে যারা পালিয়েছেন বা যাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, পশ্চিম তীর, গাজাসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়া ওই ব্যক্তিরা যাতে ফিরতে না পারেন, বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেতে না পারেন- সেই জন্যই এ আইন।

বিশ্বের কথিত মানবতাবাদীরা অমুসলিমদের জন্য কাজ করলেও, ফিলিস্তিনি মুসলিদের বেলায় তারা বেমালুম নীরব। হলুদ মিডিয়াগুলো এব্যাপারে মুখে কুলুপ লাগিয়ে রেখেছে। তাদের ভন্ডামী ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধে বিশ্ববাসীর কাছে আবারো স্পষ্ট হয়ে গেছে।

ফিলিস্তিনবাসীকে তাই নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধেই তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হক্কানি উলামায়ে কেরাম।

তথ্যসূত্র:
—–
১। ফিলিস্তিনি বিয়ে নিয়ে ইসরাইলের বর্ণবাদী আইন নবায়ন
https://tinyurl.com/yc2sc25b
২। ভিডিও লিংক:
https://tinyurl.com/2p8pdyf4

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন