কাশগড়ে মসজিদ এখন রূপ নিচ্ছে মদের বারে

আবু উবায়দা

0
566

বর্তমানে লাখ লাখ উইঘুর মুসলিমদের ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’এ পাঠিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে যাচ্ছে চীনের কমিউনিস্ট সরকার। উইঘুর মুসলিমদের ইসলাম থেকে বের করার জন্য প্রকাশ্যে মদ পান করতে বাধ্য করছে তারা। এমনকি মুসলিম নারীদেরকে জোরপূর্বক বিধর্মী চীনা পুরুষদের সাথে বিয়ে দিচ্ছে, মুসলিম শিশুদের জোর পূর্বক তাদের বাবা-মা থেকে আলাদা করছে।

কিন্তু এত কিছুর পরও ক্ষান্ত হচ্ছে না জালিম চীনা সরকার। মুসলিম নির্মূলীকরণের পাশাপাশি তাদের নজর পবিত্র মসজিদেও। ইসলাম কে নিশ্চিহ্ন করার জন্য এবার তারা মদের বারে পরিণত করছে পূর্ব-তুর্কিস্তানের মসজিদগুলোকে।

অবশ্য এর আগেও এই অত্যাচারী সরকার উইঘুর মুসলিমদের অনেক মসজিদ বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করেছে। কিন্তু এখন তারা মসজিদগুলোকে মদের বারে পরিণত করার মাধ্যমে সরাসরি মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কাশগড়ের একটি মসজিদে মানুষ বসে বসে মদ খাচ্ছে এবং একজন ওয়েট্রেস সেখান থেকে মদের গ্লাস বাহিরে নিয়ে যাচ্ছে। ছবিটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক ঝড় তৈরী হয়েছে। বেশ কিছু মানবাধিকার কর্মীও উইঘুর মুসলিমদের পক্ষে স্লোগান তুলেছে। তারা চীন সরকারকে উইঘুরদের সাথে এমন অমানবিক আচরণ বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে। কেউ কেউ চীন সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে উল্লেখ করছে।

কিন্তু মুসলিম বিশেষজ্ঞগণ বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের মতে, চীনের এই অত্যাচারী সরকারকে এভাবে দমন করা সম্ভব নয়। মুসলিমদের সবার আগে উচিত ‘এক’ হওয়া। কে তুর্কি মুসলিম, কে ভারতীয় মুসলিম, কে রোহিঙ্গা বা কে আরবি মুসলিম – বিধর্মীদের বানিয়ে দেওয়া এসব কৃত্রিম জাতিগত পরিচয় ভুলে ‘এক উম্মাহ’র একক পরিচয়ে পরিচিত হওয়া। আর যদি মুসলিম উম্মাহ এক হয়, যেমন সাহাবা-তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনরা হয়েছিলেন, এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ শুরু করেন, তাহলে শুধু পূর্ব-তুর্কিস্তান নয় বরং পুরো বিশ্বের মুসলিমরাই অত্যাচারীদের নির্যাতন থেকে রেহাই পাবে ইনশাআল্লাহ।



তথ্যসূত্র :

———
1. A mosque in #Kashgar city converted into a bar by Chinese authorities.
https://tinyurl.com/yewymfb8

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন