বর্বর বর্ণপ্রথার শিকার দলিত শিশু, ‘পানির পাত্র স্পর্শ করায়’ পিটিয়ে হত্যা

মুহাম্মাদ ইব্রাহীম

0
546

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা একদিকে রাম রাজত্বের স্বপ্ন দেখছে, আবার অন্যদিকে কল্পিত হিন্দু রাষ্ট্রের বর্বর আইন-কানুন প্রতিষ্ঠাও করতে শুরু করেছে। নিয়মিতই বর্বর হিন্দুত্ববাদী বর্ণপ্রথার স্বীকার হচ্ছে নিম্ন শ্রেণির হিন্দুরা।

এবার ‘পানির পাত্র স্পর্শ করায়’ কঠোর হিন্দু বর্ণপ্রথার শিকার হলো এক দলিত ছেলে। এই সামান্য কারণে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাজস্থান রাজ্যে নয় বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রকে তার উচ্চবর্ণের হিন্দু শিক্ষক পিটিয়ে হত্যা করেছে। শিশু ইন্দ্র মেঘওয়াল রাজস্থান জেলার সুরানা গ্রামের জালোরে সরস্বতী বিদ্যা মন্দিরে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ত।

ঘটনাটি ২০ জুলাই ঐ জালোরে সরস্বতী বিদ্যা মন্দির নামের বেসরকারি স্কুলটিতেই ঘটে।

ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে আশংকা করা হচ্ছে, এ ঘটনায় তারা হয়তো ন্যায় বিচার পাবেন না। কেননা দেশটিতে উচ্চবর্ণের হিন্দুরা সাধারণত বিচারিক ফাক-ফোকর দিয়ে বেঁচে যায়। এছাড়াও ইতোমধ্যে পুলিশ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তারা। তারা দাবি করেছে যে, আহমেদাবাদের একটি হাসপাতাল থেকে শিশুটির দেহ ফিরিয়ে আনার সময় পুলিশ খিমারামের ফোন এবং শিশুটির মেডিকেল রিপোর্ট কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

হিন্দুদের মধ্যে জাতিভেদ একটি জঘন্য প্রথা। তাদের মধ্যে ৪টি শ্রেণিভেদ থাকলেও দলিতদের তারা আরও নিচু মনে করে। তাদেরকে তারা পঞ্চমা বলেও উল্লেখ করর থাকে। উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা তাদের শারীরিক বা সামাজিক যোগাযোগ থেকে নিষিদ্ধ করে রেখেছে। তাদের ছায়া উচ্চ বর্ণের লোকদের স্পর্শ করাও নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। এমনকি তাদের মৃতদেহ শ্মশানে পুড়ানোও নিষিদ্ধ।

অনমনীয় হিন্দু বর্ণপ্রথা কিছু দলিত জাতিকে এমন পেশায় কাজ করতে বাধ্য করে, যেগুলো তথাকথিত উচ্চ বর্ণের দ্বারা অপবিত্র বলে বিবেচিত হয়। যেমন: মানুষের মলমূত্র পরিষ্কার করা এবং মৃত মানুষ ও পশুদের শেষযাত্রার কাজ করা।



তথ্যসূত্র:
——–
১। ভিডিও লিংক:
https://tinyurl.com/mr22mb89

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন