উরুমকি অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ আত্মীয় হারানো এক উইঘুর মুসলিমের আর্তনাদ

আবু-উবায়দা

0
414

গত বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব তুর্কীস্তানের উরুমকি শহরের একটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগে ৪৪ জন উইঘুর মুসলিম তাদের প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও নয়জন উইঘুর। স্থানীয়রা বলছেন, এই ব্যাপক হতাহতের জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী দখলদার চাইনিজ প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বরাতে জানা যায় যে, আগুনে পুড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলো নারী ও শিশু। উরুমকি অগ্নিকাণ্ডের কারণে অনেক উইঘুর মুসলিমই নিজের সন্তান ও পরিবার হারিয়ে এখন পাগলপ্রায়। তাঁদেরই মধ্যে একজন হলেন নির্বাসিত উইঘুর আব্দুল হাফিজ মাইমাইতিমিন।

২৭ বছর বয়সী আব্দুল হাফিজ বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে নির্বাসনে আছেন। তিনি তাঁর ৪৮ বছর বয়সী খালা হাইয়েরনিশাহান আবদুরেহেমান ও তার খালার চার সন্তানের মৃত্যুর খবর এক বন্ধুর কাছ থেকে শোনার পর স্তব্ধ হয়ে যান। তাঁর কাজিনরা সকলেই ছিলেন ৪ থেকে ১৩ বছর বয়সী।

আব্দুল হাফিজ বলেন, “খবরটি শোনার পর আমার হাত-পা কাঁপছিল। আমার পুরো মাথা ঘুরছিলো। আমার ইচ্ছে হচ্ছিলো যেন নিজেকে কোথাও ছুঁড়ে ফেলে দেই। আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।”

২০১৭ সালের মে মাসে আব্দুল হাফিজের সাথে তাঁর খালার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। সেসময় পূর্ব তুর্কীস্তানে দখলদাররা নিরাপত্তার নামে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের সময় দখলদাররা লাখ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দী ও নির্যাতন করে। দখলদারদের নির্যাতনের কবল থেকে বাঁচতে অনেকেই তখন নিজেদের ভূখণ্ড ছাড়তে বাধ্য হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল হাফিজ বলেন, “তিনি একজন গৃহিণী ছিলেন। তিনি পুরো জীবন তার সন্তানদের দেখাশোনা করা ও তাদের পড়াশোনা করানোর কাজে ব্যয় করেন। আমি কখনও কল্পনাও করি নি যে পাঁচ বছর পর তাঁর ব্যাপারে আমাকে এই খবর শুনতে হবে। আমি এখনও এটি মানতে পারছি না।”

আব্দুল হাফিজ মনে করেন যে, দখলদার চাইনিজ প্রশাসন তাঁর পরিবারকে সময়মতো উদ্ধার করেনি। কারণ তাঁরা সকলেই ছিলেন উইঘুর মুসলিম।

“আমি কখনোই দখলদার চীন সরকারকে বিশ্বাস করব না। উইঘুর মুসলিমরা যদি প্রতিবাদ করে তাহলে এই দখলদাররা তাদের শ্বাসরোধ করে খুন করবে,” বলেন আব্দুল হাফিজ।

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি মনে করি এই দখলদাররা বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

চীন কথিত ‘জিরো কোভিড নীতি’ বাস্তবায়ন করতে গত চার মাস ধরে তুর্কীস্তানের মুসলিমদের গৃহবন্দী করে রেখেছে। উইঘুর মুসলিমরা যেন ঘর থেকে বের হতে না পারে, সেজন্য তাদের ঘরের দরজা সহ বিভিন্ন আবাসিক ভবনেও তালা মেরে রেখেছে। ফলস্বরূপ আগুন লাগার পর ঘর থেকে বের হতে না পেরে অনেকেই নিজেদের প্রাণ হারিয়েছে।

অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও তাদের দায়িত্বে অবহেলা করেছে। যার ফলে আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় উইঘুর মুসলিমরা। স্থানীয়রা বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে বেইজিংয়ের ‘হুকুমের অপেক্ষায়’ ছিলো। তারা আরও বলেন, কথিত ‘জিরো কোভিড নীতির’ কারণে তারা দ্রুত কাজ শুরু করেনি।



তথ্যসূত্রঃ
———
1. Uyghur man’s agony after five relatives died in Urumqi fire
https://tinyurl.com/5y56je72

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন