দারসে রমাদান।। দারস-২৮ (শেষ দারস)।। ….. يا حيُّ يا قيُّوم দোয়া এবং একটুখানি তাদাব্বুর।।

0
176

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিন শুরু করতেন দোয়া পড়ে, শেষও করতেন দোয়া পড়ে। আজ যেই দোয়াটি নিয়ে তাদাব্বুর ও চিন্তা-ফিকর করব, সেই দোয়াটি পড়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিন শুরু করতেন। এটি সকাল-সন্ধ্যায় পড়ার দোয়া। দোয়াটি এই,
” يا حيّ يا قَيُّومُ برحمتك أستغيثُ، أصلحْ لي شأني كلَّه، وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نفسي طَرْفَةَ عين لا إله إلا أنت ”
অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী, আপনার রহমতের উসীলায় সাহায্য কামনা করছি। আপনি আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন। আমাকে নিজের কাছে নিমিষের জন্যও সোপর্দ করবেন না। আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিনের শুরুতে এই দোয়া পড়তেন। একজন মুসলিমের উচিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে দোয়া পড়ে দিন শুরু করা এবং দোয়া পড়ে দিন শেষ করা। তাঁর সমগ্র জীবন ছিল দোয়ায় পূর্ণ, সমগ্র হায়াত ছিল রবের সাথে সংযুক্ত। একজন মানুষ আল্লাহর সম্পর্ক ছাড়া মূল্যহীন। তাই সর্বদা আল্লাহর সাথে নিজের সম্পর্ক রাখা জরুরি। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা আবশ্যক। জীবনের প্রতিটি বিষয়ে প্রতিটি স্তরে একমাত্র আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত। দোয়াটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার দুইটি নাম দিয়ে শুরু করেছেন (يا حي, يا قيوم) । কিছু আলেম বলেন, الحي নামটি ইসমে আজম। এর অর্থ হচ্ছে এমন সত্তা, যার রয়েছে পরিপূর্ণ হায়াত। আল্লাহ তাআলার রয়েছে পরিপূর্ণ হায়াত। তাঁর হায়াত আমাদের হায়াতের মতো নয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র। তাঁর হায়াত কখনও অস্তিত্বহীন ছিল না, আবার কখনও শেষও হবে না। পক্ষান্তরে মানুষের হায়াত এক সময় অস্তিত্বহীন ছিল, আবার তা শেষও হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলার হায়াতে কোনও ঘাটতি, মিশ্রণ ও ত্রুটি নেই।
لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ
অর্থ: তাঁর ঘুম ও তন্দ্রা নেই। পক্ষান্তরে মানুষের হায়াত অসম্পূর্ণ, দুর্বল, ক্লান্ত ও ত্রুটিপূর্ণ।

“يا حي يا قيوم” “আল-কাইয়ুম” আল্লাহর নাম, “আল-হাই” আল্লাহর নাম। “আল-কাইয়ুম অর্থ যিনি নিজে নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং অন্যদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেন। আল্লাহ তাআলা যেহেতু অমুখাপেক্ষী তাই নিজে নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, তিনি অন্যের মুখাপেক্ষী নন। কেননা তিনি হচ্ছেন “আল-গনী” বা অমুখাপেক্ষী সত্তা। পক্ষান্তরে বনী আদম অন্যের প্রতি মুখাপেক্ষী। সে পানাহারের মুখাপেক্ষী, বিবাহের মুখাপেক্ষী, অসুস্থ হলে ডাক্তারের মুখাপেক্ষী। আর আল্লাহ তাআলার এসবকিছুর প্রয়োজনীয়তা নেই। তিনি অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত ও সম্মানিত। তিনি নিজে নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং অন্যদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আকাশ-যমীনের সকল বস্তু তিনি-ই প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি-ই এই বস্তুগুলোর প্রয়োজন মেটান।

“يا حي يا قيّوم برحمتك أستغيث” “হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী, আপনার রহমতের উসীলায় আপনার সাহায্য কামনা করছি”। একমাত্র আল্লাহ তাআলার রহমতের উসীলায় সাহায্য চাইবেন। তিনি কুরআনে নিজেকে সর্বোত্তম রহমকারী ও দয়াশীল বলেছেন। অন্য আয়াতে সকল রহমকারীদের চেয়ে বড় রহমকারী বলে নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন। মানুষ সর্বদা আল্লাহর রহমত কামনা করবে।

দোয়ায় এভাবে বলবেন,
يا أرحم الراحمين يا أكرم الأكرمين يا خير الراحمين يا خير الرازقين
আল্লাহর গুণবাচক নাম ধরে ধরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন। এটিই দোয়ার আদব ও পদ্ধতি যে, দোয়ার পূর্বে আল্লাহ তাআলার হামদ-সানা, গুণাগুণ বর্ণনা করে, তাঁর গুণবাচক সুন্দর সুন্দর নাম ধরে ডেকে ডেকে প্রার্থনা করা।

“برحمتك أستغيث أصلح لي شأني كله” “আপনার রহমতের উসীলায় আপনার সাহায্য কামনা করছি। আপনি আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন”। “أصلح لي شأني كله” এই অংশটুকু গভীরভাবে লক্ষ করুন। “আপনি আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন”-এই অংশটুকু নিয়ে আমরা একটু বিষদভাবে চিন্তা-ফিকর করব। এখানে “كله” শব্দ দ্বীনী ও দুনিয়াবী সবকিছু যুক্ত করেছে। প্রথমে আপনি বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন। আপনি “أصلح لي شأني كله” বলে দোয়া করেছেন। এর ফলে প্রথমত আল্লাহ তাআলা মহান খালিকের সাথে আপনার সম্পর্ক ঠিক করে দেবেন। আপনি বলতে পারেন, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তাঁর সাথে আমার সম্পর্ক সংশোধন করে দেবেন?

আমি সংক্ষেপে বলব, আপনাকে ভালো কাজে দৃঢ় থাকা ও মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দেবেন। অতি সংক্ষেপে বলছি, আপনার অন্তর আল্লাহ তাআলার সাথে লেগে থাকা, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে আল্লাহ তাআলার তাওহীদের উপর থাকার তাওফীক দেবেন।
আল্লাহ তাআলাই মানুষের ইসলাহ ও সংশোধন করেন। বান্দার কাছে যত ইলম, ফিকহই থাকুক; তবুও আল্লাহ তাআলা তাওফীক না দিলে, অবস্থা সংশোধন না করলে সে নিজেকে সংশোধন করতে পারবে না। সে জীবনের প্রতিক্ষণে আল্লাহ তাআলার রক্ষণাবেক্ষণের মুখাপেক্ষী। সে আল্লাহর তাওফীক ও হেফাজতের মুখাপেক্ষী। হেদায়াতের ক্ষেত্রে, কথা-কাজে সঠিকতা দানের ক্ষেত্রে, নিজের সকল বিষয় সহজ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী। বান্দার উচিত সবসময় বারবার কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেন তিনি তার সকল অবস্থা সংশোধন করে দেন। এই দোয়াটি কেবল সকাল-সন্ধ্যার সাথে নির্ধারিত নয়; বরং তা সিজদায় ও অন্যান্য কাজকর্মের সময় পড়বেন। একজন নারী ঘরে বসে আছে, সে এই দোয়া পড়বে “يا حي يا قيوم برحمتك أستغيث أصلح لي شأني كله”.।

এই দোয়ার প্রথম ফলাফল হচ্ছে আল্লাহ তাআলা আপনার ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ক ও হালত সংশোধন করে দেবেন। দ্বিতীয় ফলাফল হচ্ছে, তিনি আপনার ও নফসে আম্মারার মধ্যকার খারাবি ইসলাহ করে দেবেন। আল্লাহ তাআলা নফসকে পবিত্র করে দেবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবার শুরুরদিকে বলতেন, “ونعوذ بالله من شرور أنفسنا” “আল্লাহর কাছে নফসের খারাবি থেকে আশ্রয় চাই”। এর কারণ নফসের মাঝে অনেক খারাবি আছে। রিয়া, অহঙ্কার, ধোঁকা, নিফাকি ইত্যাদি আরও কত খারাবি আছে। আপনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবেন, সাহায্য চাইবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি দোয়া হচ্ছে,
“اللهم آت نفوسنا تقواها وزكها أنت خير من زكاها أنت وليها ومولاها”
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নফসকে তাকওয়া দান করুন, নফসকে পবিত্র করুন। আপনি তো সর্বোত্তম নফস পবিত্রকারী। আপনি এর অভিভাবক ও মাওলা।
হে আল্লাহ, আমি আমার নফসকে সংশোধন করতে পারছি না। আপনি দয়া করে, অনুগ্রহ করে আমার নফসকে পবিত্র করে দিন।

দোয়া করার সময় দ্বিতীয় যে বিষয়টি স্মরণ করবেন তা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা আপনার ও নফসে আম্মারার মধ্যকার খারাবি ইসলাহ করে দেবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে দ্বীনের পথে অবিচলতা দান করবেন এবং আপনাকে তাঁর মহান অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেবেন।

দোয়াটির তৃতীয় ফলাফল হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা আপনার ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করে দেবেন। নিকটের-দূরের সকল মানুষের সাথে আপনার সম্পর্ক ঠিক করে দেবেন। প্রথমত আপনাকে পিতামাতার অনুগত সন্তান বানিয়ে আপনার সংশোধন করবেন, আপনাকে স্ত্রীর হক আদায়ের তাওফীক প্রদানের মাধ্যমে আপনার ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক ইসলাহ করে দেবেন, আপনার সন্তানাদির সাথে আপনার সম্পর্কের ইসলাহ করে দেবেন। ফলে তাদেরকে সঠিক তরবিয়ত প্রদান করতে পারবেন। প্রতিবেশীর হক আদায়ের তাওফীক প্রদানের মাধ্যমে তাদের ও আপনার মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক করে দেবেন। অতি সংক্ষেপে, আপনি মানুষের হক আদায় করা এবং তাদের হক নষ্ট করা থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক পাবেন। ফলে মানুষের সাথে সততা, স্পষ্টতা ও ইখলাসের সাথে মুয়ামালা ও লেনদেন করতে পারবেন। আপনি তাদেরকে ধোঁকা দেবেন না, কারও সাথে কোনও ব্যাপারে মিথ্যা বলবেন না, খিয়ানত করবেন না। আপনি মানুষের উপকার করবেন, অন্যের জন্য কল্যাণকর কিছু করতে পছন্দ করবেন…।

প্রিয় ভাই, এই দোয়াটি আমাদের সকল হালে ও কালে এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজন। সকাল-সন্ধ্যায়, সিজদায় ও অন্যান্য কাজেকর্মে এই দোয়াটি বারবার পড়তে থাকুন। কেননা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই পারেন আপনার সকল অবস্থা সংশোধন করতে। সুতরাং আপনি যখন সামাজিক, আর্থনৈতিক, বা আত্মিক সমস্যার সমাধানের জন্য আল্লাহ তাআলার সাহায্য চাইবেন তখন আপনি এই দোয়াটি আবশ্যিকভাবে পড়ুন। তিনি আপনার এসকল বিষয় ইসলাহ ও সমাধান করে দেবেন।

আজকের দরসটি একটি চমৎকার ঘটনা দিয়ে শেষ করব। এক মহিলা স্বামীর জন্য খুব সাজসজ্জা করত এবং স্বামীকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করতে ম্যাকআপ ও অন্যান্য সাজসজ্জা গ্রহণ করত। সুবহানাল্লাহ! সে গহনা, পোশাক, সুগন্ধি থেকে নিয়ে সাজসজ্জার সব রকম আসবাব গ্রহণ করতে চেষ্টা করত। কিন্তু স্বামী যখন ঘরে প্রবেশ করে তখন তার দিকে ভ্রুক্ষেপও করে না। তাকে সুন্দর আকর্ষণীয় ও মধুময় কোনো কথাও বলে না। সে তার প্রতি আগ্রহ দেখায় না। মহিলাটি এই সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে বড়, সুন্দর ও মহান পন্থাটি গ্রহণ করতে ভুলে গেছে। সেই পন্থার নাম দোয়া। কেননা দোয়াকে বলা হয় মুমিনের অস্ত্র। সুবহানাল্লাহ! মহিলাটি যখন
“يا حي يا قيوم برحمتك أستغيث أصلح لي شأني كله ولا تكلني إلى نفسي طرفة عين لا إله إلا أنت”
এই দোয়াটি পড়তে শুরু করল এবং দিনে-রাতে বারবার পড়তে থাকল। তখন তার স্বামীর অন্তরের অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ! তার স্বামীর অবস্থা ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন হয়ে গেল। ফলে সে তাকে ভালোবাসতে শুরু করল, তাকে সম্মান করতে এবং তার সাথে উত্তম ও সদয় আচরণ করতে শুরু করল।

এর কারণ হচ্ছে, আল্লাহ তাআলাই সকল অন্তরের মালিক। তিনি অন্তরের পরিবর্তন ঘটান। যেভাবে ইচ্ছা করেন সেভাবে পরিবর্তন করে দেন। তাই এই দোয়াটি একদিন বা দুদিন নয়, একমাস বা এক বছর নয়; বরং সারা জীবন বারবার পড়তে থাকুন।

প্রিয় ভাইয়েরা, আপনাদেরকে এই দোয়াটি বারবার পড়ার নসীহত করছি। সম্ভব হলে নামাযে, সিজদায় বারবার পড়ুন। এই দোয়ার মাঝে অনেক কল্যাণ ও উপকার নিহিত রয়েছে। এই দোয়ার বরকতে আল্লাহ তাআলা আপনার জীবন, মনন, অবস্থা, আখলাক, পথ সবকিছু পরিবর্তন করে দেবেন।

“ولا تكلني إلى نفسي طرفة عين” “আমাকে নিজের কাছে নিমিষের জন্যও সোপর্দ করবেন না”। এখানে আল্লাহর কাছে চাচ্ছেন যেন তিনি আপনাকে আপনার কাছে সোপর্দ না করেন। কেননা তিনি যদি আপনাকে আপনার কাছে সোপর্দ করেন তাহলে আপনাকে দুর্বল, ভুল-ত্রুটিপূর্ণ, অক্ষম ও গুনাহের জায়গায় সোপর্দ করেছেন। এজন্য ইমাম ইবনে কাইয়িম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আরিফীন ও আল্লাহর পথের অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ একমত যে, আপনাকে আপনার কাছে সোপর্দ না করার তাওফীক, হেদায়াত, সঠিকতা, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি সবকিছু একমাত্র আল্লাহর তরফ থেকেই পাবেন”।

আরিফীন ও আল্লাহর পথের অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ বলেন, আপনাকে আপনার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে লাঞ্ছনা ও অপদস্থতা। এর থেকে বাঁচতে হলে এই দোয়াটি পড়ুন “ولا تكلني إلى نفسي طرفة عين”। এজন্য একজন মুমিনের যবানে সবসময় “لا حول ولا قوة إلى بالله” এই যিকর জারি রাখা উচিত। আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। আপনি সবসময় বেশি বেশি “لا حول ولا قوة إلى بالله” এই যিকর করুন। এই দোয়া ও যিকরের মাধ্যমে আপনাকে ও আপনার সকল বিষয়কে আল্লাহর কাছে ন্যস্ত করে দিয়েছেন। যেন আপনি বলছেন, “হে আল্লাহ, আমার কোনো শক্তি নেই, আমার কল্যাণ ও পূণ্যের কাজ করার কোনো তাওফীক ও শক্তি নেই। গুনাহ থেকে বেঁচে থেকে নেক কাজ করার কোনো শক্তি আমার নেই। একমাত্র আপনার তাওফীক ও সাহায্য ছাড়া আমার কোনোকিছু নেই।

“ولا تكلني إلى نفسي طرفة عين لا إله إلا أنت” “আমাকে নিজের কাছে নিমিষের জন্যও সোপর্দ করবেন না। আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই”। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সানার মাধ্যমে দোয়াটি শেষ করেছেন। দোয়াটি শুরুও করেছেন আল্লাহ তাআলার গুণবাচক দুটি নামের সানা দিয়ে। “আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই” অর্থাৎ লা-শরীক আল্লাহ তাআলা ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত, খুশু ও বিনয় প্রকাশের যোগ্য কোনও ইলাহ নেই।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তুষ্টির কাজ করার তাওফীক দান করুন, আমীন।


মূল: শায়খ খালিদ আল-হুসাইনান (আবু যায়েদ কুয়েতি) রহমাতুল্লাহি আলাইহি
অনুবাদ: আল-ফিরদাউস টিম

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধঈদ বার্তায় মুসলিমদের প্রতি শাইখ হিবাতুল্লাহ আখুন্দযাদার আহ্বান
পরবর্তী নিবন্ধপ্রতিরোধ যোদ্ধাদের একদিনের অ্যাম্বুশে অন্তত ৪০ জায়োনিস্ট সৈন্য নিহত