
আল-কায়েদা আরব উপদ্বীপ শাখা আনসারুশ শরিয়াহ্’র মুজাহিদিনরা ইয়েমেনে আমিরাত সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর একটি ড্রোন কন্ট্রোল সেন্টারে হামলা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আল-মালাহিম মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, গত ২১শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার ভোরে, ইয়েমেনের আবিয়ান প্রদেশের মুদিয়াহ জেলায় একটি যৌথ সামরিক অপারেশন পরিচালনা করছেন আল-কায়দা সংশ্লিষ্ট আনসারুশ শরিয়াহ্’র মুজাহিদিনরা। অভিযানটি এই অঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) এর স্পাই ড্রোন কন্ট্রোল সেন্টার (ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র) লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
অভিযানে আনসারুশ শরিয়াহ্’র ইনগিমাসী যোদ্ধাদের পাশাপাশি স্নাইপার শুটার মুজাহিদরাও অংশ গ্রহণ করেন, যারা ২টি ভাগে বিভক্ত হয়ে কেন্দ্রটিতে অভিযান চালান। মুজাহিদদের প্রথম অংশটি স্নাইপার দ্বারা কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সৈন্যদের টার্গেট করেন, এরপর অন্য মুজাহিদরা কেন্দ্রটিতে ভারী মেশিনগান ও ক্লাশিনকোভ দ্বারা গুলি ছুড়তে থাকেন। এসময় বেশ কিছু শত্রু সৈন্য হতাহত হয়, যাদের মধ্যে স্পাই ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী এক কর্মকর্তাও আহত হয়। পরে এই কর্মকর্তাকে বাঁচতে তার দেহরক্ষীরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন মুজাহিদদের দ্বিতীয় অংশটি অ্যাম্বুলেন্সটি টার্গেট করে স্নাইপার ও ক্লাশিনকোভ থেকে গুলি ছুড়তে শুরু করেন। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাতে করে পালানোর চেষ্টাকারী সামরিক কর্মকর্তা ও তার এক দেহরক্ষী নিহত হয়, আহত হয় তার অন্য দেহরক্ষী।
অভিযান শেষে আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (আনসারুশ শরিয়াহ্/একিউএপি) একটি দীর্ঘ বিবৃতি সহ অভিযান সংক্রান্ত পাঁচটি ছবি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরেই আমিরাতের ভাড়াটে দক্ষিণী বাহিনী মুদিয়াহ এলাকায় নিরীহ বেসামরিক মুসলমানদের বাড়িঘরে হামলা এবং এই অঞ্চলে স্পাই ড্রোন দ্বারা নজরদারি চালিয়ে আসছিল। শত্রুর এধরণের বর্বরোচিত হামলা ও নজরদারি জনগণের সাধারণ-জীবনযাত্রার উপর প্রভাব ফেলছিল। ফলে তাঁরা এর সমাধানের জন্য মুজাহিদদের কাছে আবেদন করেন।
পরে মুজাহিদগণ তাদের গোয়েন্দা ইউনিটের কাছে আশা কয়েকটি রিপোর্টের ভিত্তিতে শত্রুর স্পাই ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। এরপর মুজাহিদিনরা পরামর্শ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে সৈন্যদের আস্তানাটিতে হামলার সিদ্ধান্ত নেন।