২০২৫ সালে বিভিন্ন সেক্টরে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অর্জন

0
86

৩১ ডিসেম্বর অফিসিয়াল এক্স পোস্টের বার্তায় ২০২৫ সালব্যাপী বিভিন্ন সেক্টরে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সাফল্য উপস্থাপন করেছেন মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ। তাঁর বার্তার আলোকে ২০২৫ সালে ইমারাতে ইসলামিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সাফল্য তুলে ধরা হল:

১) তুর্কমেনিস্তান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান-ভারত (টিএপিআই) গ্যাসলাইন প্রকল্পের আওতায় আফগান ভূখণ্ডে এখন পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৮৭ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

২) নিরাপত্তা বাহিনীর ১,৮১,০৮৪ জন সদস্যকে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। অপরদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ১,০০,৩০০ জন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তা, অপরাধ তদন্ত, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন।

৩) রাশিয়া ফেডারেশন কর্তৃক আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া সরকার। অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে ৯৯টি বিদেশ সফর সম্পাদন করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়ার মন্ত্রী, উপমন্ত্রীসহ মন্ত্রীপরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

৪) বিগত বছরে কুশ তেপা খালে ২য় পর্যায়ে ৯৫ শতাংশ খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া এই খাল বরাবর ২৫টি সেতু, পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও টানেল নির্মাণ কাজ চলমান আছে।

৫) ২০২৫ সালে আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি মহাসড়কে পুনর্নির্মাণ কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কাবুল-গজনি সড়কের দ্বিতীয় লেন, সালাং সড়কের অবশিষ্ট অংশ, ওয়াখান করিডোর, কাবুল-নানগারহার সড়কের দ্বিতীয় লেন এবং কাবুল-লোগার সড়কের দ্বিতীয় লেন। এছাড়া আঞ্চলিক ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে রেলপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

৬) আফগান মুদ্রা স্থিতিশীল রয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে আফগানি মুদ্রার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত বছরে মুদ্রাস্ফীতির হার কম হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তানে খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় কম রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৪.৩ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে আফগানিস্তান।

৭) বিগত বছরব্যাপী ৩৩টি সভায় ৫৬২টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে ইমারাতে ইসলামিয়ার জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিশন। এই সব প্রকল্পের মূল্য সর্বমোট ১৩০.৬ বিলিয়ন আফগানি।

৮) ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত আজিজি কোম্পানির সাথে ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

৯) কৃষি, ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য, হস্তশিল্পসহ ২৪টি সেক্টরে আফগানিস্তানে দেশীপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিটি সেক্টরে বিনিয়োগের বিস্তৃত ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাসায়নিক শিল্প, নির্মাণ সামগ্রী, যন্ত্রপাতি ও ধাতব শিল্প, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প, মুদ্রণ শিল্প, কাঠ ও কাগজ শিল্প, আলোক শিল্প, খাদ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন শিল্পে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের পরিবেশ সুগম হয়েছে।

১০) কাবুল পৌরসভার অধীনে গত এক বছরে কাবুলে মোট ৩৭৫টি প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭০টি প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে ও ২০৫টি প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

১১) বিগত বছরে আফগানিস্তানে ১৭টি ধর্মীয় ও ২২১টি আধুনিক স্কুল নির্মিত হয়েছে।

১২) ২০২৫ সালে ২৮ লক্ষ আফগান শরণার্থী স্বদেশে ফিরে এসেছেন। তাদের প্রত্যাবাসন দক্ষতার সাথে পরিচালনা করা হয়েছে, তাদেরকে আবাসনসহ মৌলিক পরিষেবা সরবরাহ করা হয়েছে।

১৩) সর্বমোট ৩৫,২২৮ জন মাদকাসক্ত সুস্থ হয়ে নিজ পরিবারে ফিরে গেছেন। এছাড়া প্রধান শহরগুলো থেকে ১০,৬৬৪ জন ভিক্ষুক সংগ্রহ ও পুনর্বাসন করা হয়েছে।

১৪) দেশের প্রতিটি জেলায় ৩০ শয্যার একটি করে মোট ৩১৮টি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি হাসপাতাল বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে, বাকিগুলোতে নির্মাণ কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

১৫) সারা দেশে ৬ লক্ষ এরও বেশি এতিম, প্রতিবন্ধী ও বিধবাকে প্রায় ১২ বিলিয়ন ও ৫০০ মিলিয়ন আফগানি সরবরাহ করেছে ইমারাতে ইসলামিয়ার শহীদ ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

১৬) বিগত বছরে সারাদেশে ২২টি মেগাপ্রকল্প শুরু করেছে ইমারাতে ইসলামিয়ার অর্থনীতি বিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রী কার্যালয়। এছাড়া আরও ২০টি প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

১৭) পানি ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ৩৪১টি ছোট বাঁধ ও ৯টি বড় বাঁধ সম্পন্ন ও নির্মাণাধীন রয়েছে।

১৮) গত বছরে লাগমান প্রদেশে শাহি খাল, হেলমান্দের নাহর-ই-সারজ খাল ও কাজাকি বাঁধ সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। নিমরুজ প্রদেশের কামাল খান বাঁধ, কাবুলের শাহ-ওয়া-আরুস বাঁধ ও হেরাতের পাশদান বাঁধের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন ও কার্যকর করা হয়েছে।

১৯) মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপদ ট্রানজিট রুট হয়ে উঠেছে আফগানিস্তান। টিএপিআই গ্যাসলাইন, সিএএসএ-১০০০ ও টিএপি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ট্রান্স-আফগান রেলওয়ে এই আঞ্চলিক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হয়েছে।

২০) কয়েক ডজন খনিতে খনিজ সম্পদ উত্তোলন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এছাড়া আরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খনিতে উত্তোলন প্রক্রিয়া আরম্ভ করার লক্ষ্যে ভূতাত্ত্বিক জরিপ সম্পন্ন হয়েছে।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/2s3zcxju
2. https://tinyurl.com/3zr45cme

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধইয়েমেনে মুজাহিদদের আইইডি বিস্ফোরণে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং ডেপুটি মেয়রসহ একাধিক শত্রু হতাহত
পরবর্তী নিবন্ধসম্ভাবনার পথে অগ্রযাত্রা: ২০২৫ সালে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক অগ্রগতি