
ভারতে কেরালা রাজ্যের কোঝিকোড় জেলায় একদল মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্মমভাবে মারধর করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। উক্ত জেলার পেরামব্রা এলাকার কাছে একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন দেয়ালে কিছু পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটনা।
১৭ এপ্রিল মুসলিম মিররের এক প্রতিবেদনে এই নিউজ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট হিন্দু মালিক তার দেয়ালে কিছু পোস্টার লাগানোর ব্যাপারে মাদ্রাসা ছাত্রদের অনুমতি দেয়। তবে পোস্টারিং কাজ সম্পন্ন করতে ঐদিন রাতে ছাত্রদেরকে আসতে বলে। রাতে পোস্টারসহ ছাত্ররা হিন্দু মালিকের নিকট পুনরায় আসে। কিন্তু সেসময় হিন্দুত্ববাদী এই মালিক মাদ্রাসা ছাত্রদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে আরম্ভ করে।
ছাত্রদের অভিযোগ, তাদেরকে জোর করে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের সামনে পানি পরিবেশন করা হয়। এরপর বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় এবং চলমান ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা, আফগানিস্তান, সিরিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে তাদেরকে আক্রমনাত্নক মনোভাব নিয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করে।
ছাত্ররা সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাড়ির গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সেসময় তাদেরকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, লাথি মারা হয় ও ধাতব বস্তু দ্বারা আঘাত করা হয়। ‘সন্ত্রাসী’ ট্যাগসহ তাদের বিরুদ্ধে নানা সাম্প্রদায়িক অপবাদ আনা হয়।
এক পর্যায়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা নিকটবর্তী একটি রেস্তোরাঁয় পালিয়ে যায়, তখনও হামলাকারীরা সাম্প্রদায়িক ইস্যু টেনে তাদেরকে লক্ষ্য করে গালমন্দ করতে থাকে।
গুরুতর আহত কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্রকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এই ছাত্রদের অনেকেই স্কুল বয়সী বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন। সাম্প্রদায়িক আক্রমণের পাশাপাশি হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে শিশু নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।
অপরদিকে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা রুজু করেনি পুলিশ। ঘটনাটি কেরালা রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নিয়ে আবারও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/hk6b9b2h


