
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১১ আগস্ট (মঙ্গলবার) কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে জমিয়াত-এ-উলামা। এসআইআর (Special Intensive Revision) এর নামে ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বৈষম্যমূলকভাবে’ বাদ দেওয়া এবং মসজিদ থেকে অযৌক্তিকভাবে লাউডস্পিকার অপসারণের প্রতিবাদে তারা এই বিক্ষোভ করেছে।
সাংবিধানিক অধিকার সত্ত্বেও প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভ মিছিলের অনুমতি দেয়নি কলকাতার হিন্দুত্ববাদী পুলিশ। পরবর্তীতে রাজাবাজার থেকে মৌলালি পর্যন্ত সীমিত পরিসরে মিছিলের অনুমতি দেয় আদালত।
বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন জমিয়ত-এ-উলামার রাজ্য সভাপতি মওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। মসজিদের লাউডস্পিকার সরাতে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের কঠোরতা আরোপের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ জানান। তিনি অভিযোগ করেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) বিষয়টিকে রাজনৈতিক ‘নাটক’-এ পরিণত করেছে।
এর আগে গত ৩ আগস্ট কলকাতা পুলিশের কাছে প্রায় ২,০০০ মানুষের মিছিলের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল জমিয়ত-এ-উলামা। কিন্তু ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
ভিত্তিহীন অজুহাত দেখিয়ে মিছিল আয়োজনে বাধা প্রদানের পদক্ষেপে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে। জনবহুল স্থানে সরকারি কর্মদিবসে ইতোপূর্বে মিছিল আয়োজনের দৃষ্টান্ত রয়েছে, তাসত্ত্বেও জমিয়ত উলামার মিছিল আয়োজনের উদ্যোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে কলকাতা পুলিশ। আদালতের যুক্তি, সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে।
আদালত মিছিলের অনুমতি দিলেও একাধিক শর্ত আরোপ করেছে। সর্বোচ্চ ৭৫০ জন মিছিলে অংশ নিতে পারবেন। পাশাপাশি মিছিলের ১০ জন স্বেচ্ছাসেবককে (ভলান্টিয়ার) তাদের যোগাযোগের সকল তথ্য পুলিশকে দিতে বলা হয়।
মিছিলে লাউডস্পিকার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কেবল হাতে ধরা মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক মসজিদ থেকে স্থানীয় থানাগুলোর মৌখিক নির্দেশে আজানের সময় ব্যবহৃত লাউডস্পিকার সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
ওয়াকফ বোর্ডের নথি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬২ হাজার মসজিদ রয়েছে। তবে বহু ছোট গ্রামীণ মসজিদ সরকারি নথিভুক্ত না থাকায় মসজিদের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/ykuaf6nv


