পাকিস্তানি সন্ত্রাসী সামরিক শাসকগোষ্ঠীর রক্তাক্ত ইতিহাসে যুক্ত হল আরও একটি কালো অধ্যায়

0
15

‎আবারও আফগানিস্তানের নিরীহ বেসামরিক জনগণের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে নিজেদের রক্তাক্ত ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায় যোগ করেছে পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী। পাকতিকা প্রদেশের গিয়ান জেলা, পাকতিয়া প্রদেশের চামকানি জেলা এবং কুনার প্রদেশের মানোগাই জেলায় পরিচালিত এই হামলায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ বহু নিরীহ মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন। কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়, বরং সাধারণ মানুষের বসতিতে বোমাবর্ষণ করে পাকিস্তান আবারও প্রমাণ করেছে যে, তাদের এই নীতি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নয়, বরং ভয়, ধ্বংস ও অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর।

‎এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এক পুনরাবৃত্ত সন্ত্রাসী আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা। নিজ দেশের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব বারবার সেই ব্যর্থতার দায় ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিবেশী দেশের নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে কোনো রাষ্ট্র কখনো নিজের অভ্যন্তরীণ সংকটের সমাধান করতে পারেনি।

‎রাষ্ট্রের মর্যাদা শিশু হত্যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না, প্রতিবেশীর গ্রামে বোমা ফেলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না, আর আগ্রাসন কখনো স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে শক্তি জুলুম-নির্যাতনকে রাষ্ট্রনীতিতে পরিণত করেছে, শেষ পর্যন্ত সেই শক্তিই নিজের জুলুমের বোঝায় ভেঙে পড়েছে। জুলুম সাময়িক ভয় সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু তা কখনো স্থায়ী বিজয় এনে দিতে পারে না।

‎পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী যদি নিরপেক্ষভাবে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের ইতিহাস পর্যালোচনা করত, তবে তারা উপলব্ধি করত যে এই ভূখণ্ড কখনো আগ্রাসনের সামনে মাথা নত করেনি। বিশ্বের শক্তিধর সাম্রাজ্যগুলোও এই ভূমির মুজাহিদদের দমাতে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং নিরস্ত্র নারী-শিশুদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তানও কোনো কৌশলগত সাফল্য অর্জন করতে পারবে না। বরং এ ধরনের হামলা তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক দুর্বলতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে।

‎যদি পাকিস্তান সত্যিই তার নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় আন্তরিক হতো, তবে তারা প্রকৃত হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করত। কিন্তু বসতবাড়ি, মসজিদ ও জনবসতিতে বোমাবর্ষণ কোনো বৈধ সামরিক অভিযান নয়; এটি কেবল কৌশলগত দেউলিয়াত্ব এবং রাজনৈতিক অক্ষমতার প্রতিফলন। এর একমাত্র শিকার হন নিরপরাধ নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষ, সংঘাতের সঙ্গে যাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

‎তালেবান মুজাহিদিন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রমাণ করেছে যে শক্তি, ভয়ভীতি কিংবা বোমাবর্ষণের মাধ্যমে তাদের মনোবল ভাঙা যায় না। বরং প্রতিটি আগ্রাসন তাদের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ইসলামী ভূমির প্রতি অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। যারা শক্তি প্রয়োগ করে আফগান জনগণকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছে, ইতিহাসে তাদের প্রত্যেককেই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

‎বিশেষ করে নারী ও শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো মানবিক আইন, নৈতিকতা ও মানবতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের অপরাধ শুধু ক্ষোভ ও বৈরিতা বাড়ায় না, বরং এটিও প্রমাণ করে যে একটি ব্যর্থ নীতি ও অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত শাসনব্যবস্থা নিজের দুর্বলতা আড়াল করতে নিরীহ মানুষের রক্তকে ব্যবহার করছে।

‎বর্তমানে পাকিস্তান অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তাহীনতার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। কিন্তু এসব সংকটের সমাধান ইমারাতে ইসলামিয়ার আকাশে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে সম্ভব নয়। প্রকৃত সমাধান নিহিত রয়েছে আত্মসমালোচনা, সঠিক নীতিনির্ধারণ, প্রতিবেশী ইসলামী ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে আস্থা গড়ে তোলার মধ্যে।

‎পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠীর উপলব্ধি করা উচিত যে আফগান মুজাহিদিনের রক্ত তাদের জন্য কোনো বিজয় বয়ে আনবে না, ব্যর্থ নীতিকে সফল করবে না এবং ইতিহাসের বিচারের হাত থেকেও রক্ষা করবে না। আজ তারা যে আগ্রাসনের বীজ বপন করছে, আগামীকাল তার রাজনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও নৈতিক পরিণতির মুখোমুখি তাদেরই হতে হবে। ইতিহাস কখনো অত্যাচারীর অপরাধ ভুলে যায় না। নিরপরাধ মানুষের রক্তের হিসাব একদিন না একদিন অবশ্যই হবে, ইসলামী ইমারাত ও তাঁর জনগণের বিরুদ্ধে অন্যায় আগ্রাসনের জবাব ভূমির মুজাহিদরা অবশ্যই দিবে ইনশাআল্লাহ।


‎তথ্যসূত্র
‎1. The Recurring Crimes of the Pakistani Military Regime… A Path to Defeat, Not Victory
‎- https://tinyurl.com/2smwt7cv

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধদক্ষিণ সোমালিয়ায় মোগাদিশু ও উগান্ডান বাহিনীর একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে আশ-শাবাবের ৫ অভিযান, হতাহত বহু শত্রু সেনা