পাকিস্তানের কোহাট জেলা পুলিশ স্টেশনে হামলা: ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন সম্পর্কে মিডিয়া প্রোপাগান্ডা

0
33

পাকিস্তান ভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামি সামরিক জোট ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন পাকিস্তান বা আইএমপি (IMP) মূলত ৩টি সশস্ত্র বা প্রতিরোধ দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনী। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ এবং উপজাতীয় অঞ্চলে শরিয়াহ্ বিরোধী দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এই জোটটি গঠিত হয়। এই জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দলগুলো হচ্ছে-
১. হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপ,
২. লস্কর-ই-ইসলাম পাকিস্তান এবং
৩. হরকত-ই-ইনকিলাব-ই-ইসলাম পাকিস্তান।

সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট শহরে একটি পুলিশ স্টেশনে শক্তিশালী গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ও অতর্কিত আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ স্টেশনে একজন ইস্তেশহাদী ও ৭ জন ইনগিমাসী যোদ্ধা এই অভিযানটি পরিচালনা করেন। তারা এই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসাবে পুলিশ লাইন, সিটিডি (CTD) কম্পাউন্ড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসকে চিহ্নিত করে টানা ২১ ঘন্টা যাবৎ আক্রমণ চালান। কিন্তু স্টেশনের সামনের অংশেই সামরিক বাহিনীর জন্য নির্ধারিত মসজিদ থাকায় শক্তিশালী গাড়ি বিস্ফোরণে মসজিদের সামনের অংশটি শহীদ হয়। ফলে সামরিক বাহিনীর ৬৬টি জন সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও শহিদ হন, এছাড়াও আরও দেড় শতাধিক সামরিক কর্মী এবং ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।

এই হামলায় মসজিদ ও বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনায় ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন পাকিস্তান (আইএমপি) সংশ্লিষ্ট হরকত-ই-ইনকিলাব-ই-ইসলাম পাকিস্তান, আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ এবং ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান সহ সশস্ত্র ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনীগুলো নিন্দা জানিয়ে পৃথক বিবৃতি জারি করে।

প্রতিরোধ বাহিনীগুলোর সামরিক জোট ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আইআইপি কোহাট শহরে পরিচালিত হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে এমন একটি কাজ হিসেবে অভিহিত করেছে যা “জিহাদের উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আইআইপি (IIP) আরও বলেছে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো এবং তা প্রতিরোধের পদক্ষেপ নেওয়া সকল মুজাহিদদের জন্য অপরিহার্য।”

এই হামলার পর ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো একজন জ্যেষ্ঠ একিউএস (AQS) নেতার পুরোনো অডিও বক্তব্যও শেয়ার করেছে; যেখানে তিনি শহীদ ওসামা বিন লাদেন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) কর্তৃক অতীতে মসজিদ ও বাজারে হামলার সমালোচনার কথা উল্লেখ করেন। সেই সাথে শত্রুরা মসজিদের ভেতরে অবস্থানকালেও হামলা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে ওসামা বিন লাদেন (রহ.) এর পরামর্শের কথা তুলে ধরেন।

সবশেষ আল-কায়েদা উপমহাদেশ (AQS) কর্তৃক জারি করা বিবৃতিতে, মসজিদকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে দলটি নতুন করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। এতে উল্লেখ করা হয় যে, “জামায়াত কায়েদাতুল জিহাদ মসজিদ, বাজার এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে শরিয়াহ-বিরোধী শত্রুদের লক্ষ্যবস্তু করাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে মনে করে। আর এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর দিক ও ফলাফল সুস্পষ্ট; তাই আমরা এগুলোকে অগ্রহণযোগ্য এবং জিহাদের লক্ষ্য ও মুজাহিদদের মিশনের জন্য ক্ষতিকর বলে গণ্য করি।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, আমরা গভীর দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, পাকিস্তানের কোহাটা শহরে শরিয়াহ-বিরোধী সংস্থা সিটিডি (কাউন্টার-টেররিজম ডিপার্টমেন্ট) এবং পুলিশ লাইন্সের উপর পরিচালিত হামলার সময় কিছু মুজাহিদ একটি মসজিদকেও লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন।

আমরা মুজাহিদদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, তাঁরা যেনো তাঁদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে পবিত্র ও মহৎ রাখেন; তাই ইসলাম-বিরোধী শক্তির সেবাদাস হিসেবে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করুন এবং এমন যেকোনো কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন যা আপনাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মপদ্ধতিকে ক্ষুণ্ণ করে!

প্রতিরোধ দলগুলোর এমন স্পষ্ট বিবৃতির পরও কিছু মিডিয়া কোনো সূত্র ছাড়াই দাবি করছে যে, “ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন পাকিস্তান (আইএমপি) । অথচ আইএমপি ৩টি দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি সামরিক জোট, এই জোটের অধীনস্থ দলগুলোর সম্মতিতে কোনো সামরিক অপারেশন চালালে তাঁরা তা নিজস্ব মিডিয়া উইং বা সংবাদ মাধ্যম সাদায়ে-হক থেকেই একযোগে প্রচার করেন। আর জোটের সম্মতি ছাড়া দলগুলোর কোনো হালকা যদি সামরিক অপারেশন চালিয়ে থাকে তবে এর দায় জোটটি গ্রহণ করে না এবং তা সাদায়ে-হক মিডিয়া থেকে প্রচারও করা হয় না।

স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, এই হামলাটি এককভাবে ” আল-বদর ইস্তেশহাদী ফোর্স” নামক একটি ছোট দল কর্তৃক চালানো হয়েছে, যারা ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন কিংবা আল-কায়েদার সাথে সম্পৃক্ত নয়। বরং এই দলটি হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপের সাথে সম্পর্ক রেখে চলে এবং তারা হামলার পর এককভাবেই এর দায় স্বীকার করেছে। সেই সাথে ছোট এই দলটির সাথে যুক্ত অ্যাকাউন্টগুলো দাবি করে যে, তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলো পুলিশ স্টেশনে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানগুলো। কিন্তু স্টেশনের ভিতর অবস্থিত মসজিদটি তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলো না।


তথ্যসূত্র:
– https://chirpwire.net/thread/1098640
– https://x.com/Affan_murabet/status/2100926071629566220
– https://x.com/IbneAfra71/status/2100957030055809474

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধকুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ দিন পর মৃত্যু