
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট শহরে একটি পুলিশ স্টেশনে শক্তিশালী গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ও অতর্কিত আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ স্টেশনে শক্তিশালী গাড়িবোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই হামলাটি শুরু হয় এবং বিস্ফোরণের পরপরই সশস্ত্র ৭ যুবক পুলিশ লাইন, সিটিডি (CTD) কম্পাউন্ড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসে প্রবেশ করে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে। এসময় আক্রমণকারী যুবকরা প্রথমে স্টেশনের অস্ত্রের ডিপোর নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং তা ধ্বংস করে। শুক্রবার ১:২১ মিনিটে শুরু হওয়া এই আক্রমণ টানা ২১ ঘন্টা যাবৎ চলমান থাকে।
প্রতিরোধ বাহিনী হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত একটি দল “আল-বদর ইস্তিশহাদি ফোর্স” এককভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। দলটির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, তাদের এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলো সিটিডি (CTD) কম্পাউন্ড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিস। ফলে লক্ষ্যবস্তুতে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ অন্তত ৬৬ সদস্য নিহত এবং প্রায় ১৫০ সদস্য আহত হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রগুলো বলছে, এই হামলার ঘটনায় পুলিশ স্টেশনে অবস্থিত একটি মসজিদও লক্ষ্যবস্তুর শিকার হয়েছে। ফলে সামরিক কর্মীরা ছাড়াও ৬ জন বেসামরিক নাগরিক শহীদ এবং আরও ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
এদিকে কোহাটায় পরিচালিত এই হামলার পর ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান সরকার, আল-কায়েদা উপমহাদেশ এবং প্রতিরোধ দলগুলোর সামরিক জোট আইএমপির সাথে জোটবদ্ধ হারাকাত-ই-ইনকিলাব-ই-ইসলামি পাকিস্তানের মতো প্রতিরোধ বাহিনীগুলো নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি জারি করেছে।
ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন পাকিস্তান (আইএমপি) সংশ্লিষ্ট ‘হারাকাত-ই-ইনকিলাব-ই-ইসলামি পাকিস্তান’ (IIP) কোহাট হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে এমন একটি কাজ হিসেবে অভিহিত করেছে যা “নিষিদ্ধ এবং জিহাদের উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আইআইপি (IIP) আরও বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো এবং তা প্রতিরোধের পদক্ষেপ নেওয়া সকল মুজাহিদদের জন্য অপরিহার্য।”
আইআইপি-সংশ্লিষ্ট একটি অ্যাকাউন্টে একজন জ্যেষ্ঠ একিউএস (AQS) নেতার পুরোনো অডিও বক্তব্যও শেয়ার করা হয়েছে; সেখানে তিনি শহীদ ওসামা বিন লাদেন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) কর্তৃক অতীতে মসজিদ ও বাজারে হামলার সমালোচনার কথা উল্লেখ করেন। সেই সাথে শত্রুরা মসজিদের ভেতরে অবস্থানকালেও হামলা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে ওসামা বিন লাদেন (রহ.) এর পরামর্শের কথা তুলে ধরেন।
সবশেষ আল-কায়েদা উপমহাদেশ (AQS) কর্তৃক জারি করা বিবৃতিতে, মসজিদকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে দলটি নতুন করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। এতে উল্লেখ করা হয় যে, “জামায়াত কায়েদাতুল জিহাদ মসজিদ, বাজার এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে শরিয়াহ-বিরোধী শত্রুদের লক্ষ্যবস্তু করাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে মনে করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর দিক ও ফলাফল সুস্পষ্ট; তাই আমরা এগুলোকে অগ্রহণযোগ্য এবং জিহাদের লক্ষ্য ও মুজাহিদদের মিশনের জন্য ক্ষতিকর বলে গণ্য করি।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, আমরা গভীর দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, পাকিস্তানের কোহাটা শহরে শরিয়াহ-বিরোধী সংস্থা সিটিডি (কাউন্টার-টেররিজম ডিপার্টমেন্ট) এবং পুলিশ লাইন্সের উপর পরিচালিত হামলার সময় কিছু মুজাহিদ একটি মসজিদকেও লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন।
আমরা ইসলামের মুজাহিদদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন তাঁরা তাঁদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে পবিত্র ও মহৎ রাখেন; তাই ইসলাম-বিরোধী শক্তির সেবাদাস হিসেবে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করুন এবং এমন যেকোনো কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন যা আপনাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মপদ্ধতিকে ক্ষুণ্ণ করে!
তথ্যসূত্র:
– https://tinyurl.com/zp4xa352


