
ভোলার চরফ্যাশনে জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার হিসেবে পুরোনো, দাগযুক্ত ও ছেঁড়া বই দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বিতরণ করা বইয়ে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকা নিয়েও অভিভাবক ও স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর চরফ্যাশন উপজেলা মডেল মসজিদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উপজেলা পর্যায়ের জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভোলা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ইসলামী জ্ঞান, আজান, কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিজয়ী শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া বইগুলোর অনেকগুলোই ৭ থেকে ১২ বছরের পুরোনো। কোনো কোনো বইয়ের পৃষ্ঠা ছেঁড়া এবং গায়ে দাগ রয়েছে। ভালো পারফরম্যান্সের পর নতুন বইয়ের প্রত্যাশা থাকলেও এসব জীর্ণ বই পেয়ে অনেক শিশু হতাশ হয়ে পড়ে। বিচারকমণ্ডলীর এক সদস্য গণমাধ্যমে জানায়, অনুচিত এই উপহার পেয়ে কয়েকজন শিশু অনুষ্ঠানস্থলেই কেঁদে ফেলে।
জানা যায়, বিতরণ করা ‘সৈনিকের চল্লিশ হাদিস’ বইটি ২০১৪ সালের আগস্টে এবং ‘ওলীকুল শিরোমণি শায়খ মুহিউদ্দিন আবদুল কাদির জিলানী (কা.সি.)’ বইটি ২০১৭ সালের জুনে প্রকাশিত। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বই বহু পুরোনো হওয়ায় এবং ভেতরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম বহাল থাকায় জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমানের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিতর্কিত বই বিতরণ প্রসঙ্গে জেলা উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানায়, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে এমনটি হতে পারে। তবে যারা পুরোনো বই পেয়েছে, আমাদের জানালে আমরা তাদের নতুন বই দিয়ে দেব। বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দাবি করেছে, এগুলো আগে ছাপানো পুরোনো বই বলেই নাম রয়ে গেছে, তবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলাদা কোনো বই দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ সাংবাদিকদের জানায়, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত বই দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র:
১। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পুরস্কারের বইয়ে শেখ মুজিবের নাম, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা
– https://tinyurl.com/yc6ybcex


