ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে রাতভর উচ্চস্বরে ডিজে গান-বাজনা, প্রতিবাদ করায় মাদরাসাছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলা

0
7

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে রাতভর উচ্চ শব্দে ডিজে গান ও বক্স বাজানোর কারণে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছিল। এর প্রতিবাদ করতে গেলে জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশের সদস্যরা। এতে অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকাটিতে এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১২ টার দিকে এ ঘটনার ঘটে। জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ।

তবে, ডিআইজি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে চলে যাওয়ার পরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। এদিকে পার্শ্ববর্তী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসায় বর্তমানে পরীক্ষা চলছে। রাতভর উচ্চস্বরে ডিজে গান ও বক্স বাজিয়ে আনন্দ-উল্লাসের কারণে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছিল। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি এর আগে পুলিশ সুপারকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে শহর ও শহরতলি এলাকায় গভীর রাতে উচ্চস্বরে গান-বাজনা না বাজানোর বিধিনিষেধের কথা জানিয়ে কিছু শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দের মাত্রা কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আহত শিক্ষার্থীদের প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

কয়েকজন শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) তাদের পরীক্ষা রয়েছে। উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে তাদের সমস্যা হচ্ছিল। তারা বলেন, প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে গানবাজনার উচ্চস্বর কমানোর অনুরোধ করেন। প্রথমে উচ্চস্বর কমানো হলেও পরে আবার উচ্চস্বরে গান বাজানো শুরু হয়। এ নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের (হাফিযাহুল্লাহ) সঙ্গে বৈঠকে বসেছে পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ। বৈঠকে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ সময় বৈঠকে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভবিষ্যতে জেলা পুলিশ লাইন্সে কোনো উন্মুক্ত কনসার্ট বা উচ্চ শব্দের গান-বাজনার অনুষ্ঠান আয়োজন না করার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেওয়া, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

এছাড়াও বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টার মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।


তথ্যসূত্র:
১। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষ, আহত ৩০
– https://tinyurl.com/yck5us5x

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধবড় প্রকল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণে যৌথ শেয়ারভিত্তিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া
পরবর্তী নিবন্ধনেত্রকোনায় মুসলিম সেজে মুসলিম তরুণীকে বিয়ে, আট বছর সংসার করে পুনরায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে আরেক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করেছে এক হিন্দু যুবক