
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানে পঞ্চম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে একট বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৭ আগস্ট, সোমবার স্থানীয় একটি হোটেলে আফগান দূতাবাস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সম্পর্ক, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পাকিস্তানে নিযুক্ত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত সারদার আহমদ শাকিব বলেন, আফগানিস্তান পাকিস্তানের সঙ্গে কোন সংঘাত চায় না। বরং সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে চায়। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা উচিত।
সারদার আহমদ শাকিব বলেন, চাপ বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হয় না। পারস্পরিক বোঝাপড়া, ধারাবাহিক সংলাপ এবং আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই আস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলোও বোঝার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
আফগান রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক আস্থা, বাস্তব সহযোগিতা, সমন্বয় এবং একে অপরের বৈধ উদ্বেগের প্রতি সম্মান প্রয়োজন। তিনি আফগানিস্তানের ভৌগোলিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরে বলেন, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল আফগানিস্তান আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, তিনি আশাবাদী যে পাকিস্তান আফগানিস্তানের পাশে থাকবে এবং আফগানিস্তানও পাকিস্তানের পাশে থাকবে।
ফজলুর রহমান বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান উভয় দেশই অঞ্চলে একটি সেতুর ভূমিকা পালন করতে পারে। এ জন্য তিনি দুই দেশকে অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব উপলব্ধি করার আহ্বান জানান।
মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের উচিত বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সক্ষমতা ও সম্মিলিত শক্তির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
তথ্যসূত্র
1. له پاکستان سره د مخامخ کېدا په لټه کې نه یوو- د افغانستان سفیر
– https://tinyurl.com/69n52vft


