
ভারতের মহারাষ্ট্রে ধর্মান্তর নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন কার্যকর করতে চলেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। ‘মহারাষ্ট্র ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামে আইনটি আগামী ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের দাবি, জোর, প্রতারণা, ভয় দেখানো, ভুল তথ্য বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তর রুখতে আইনটি প্রয়োগ করা হবে। অপরদিকে আইনটি ইসলাম প্রচার ও স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের বিরুদ্ধে অপপ্রয়োগ করা হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আলেম-ওলামা ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
বিতর্কিত এই আইন অনুযায়ী, জোরপূর্বক, প্রতারণা, ভয় দেখানো, ভুল তথ্য, প্রলোভন কিংবা অন্য কোনও বেআইনি উপায়ে ধর্মান্তর করাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একইভাবে বিয়ে বা বিয়ের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যুক্ত ধর্মান্তরকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
কিন্তু নতুন আইনে ‘প্রলোভন’ বা ‘প্রতারণামূলক ধর্মান্তর’ এই শব্দগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই বলে অভিযোগ ওঠেছে। যেমন, ইসলামের শিক্ষা, ঈমান, তাওহীদ বা পরকাল সম্পর্কিত বিষয়গুলোর প্রতি আগ্রহী হয়ে অনেক অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করে থাকেন। কিন্তু এগুলোকে যদি ‘প্রলোভন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে দ্বীন ইসলামের প্রচার হুমকির মধ্যে পড়বে, পাশাপাশি দ্বীনের দায়ীদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে।
আইনে ধর্মান্তরের আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, পুলিশি তদন্ত এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মতো বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়গুলো একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়, এর ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।
সমালোচকদের মতে, আইনটির মাধ্যমে নাগরিকদের ধর্ম বাছাইয়ের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় তদন্তের আওতায় চলে আসবে। পাশাপাশি ধর্মান্তরবিরোধীরা এই আইনে অতিরিক্ত প্রশ্রয় লাভ করবে, তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষত নওমুসলিম এবং মুসলিম দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়বে।
বিতর্কিত আইনটি ইতোমধ্যে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে চালু রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদী সরকারও ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছে।
ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি এই আইনের প্রতিবাদ করে বলেছেন, ভারতীয় সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে নাগরিকদের নিজের ধর্ম বেছে নেওয়া, পালন ও প্রচারের অধিকার দেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে ধর্মান্তর নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নতুন আইনটি সংবিধানের নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক।
তিনি সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবহৃত ‘allurement’ বা প্রলোভন এবং ‘fraudulent’ বা প্রতারণামূলক ধর্মান্তর-এর মতো শব্দ নিয়ে আপত্তি জানান। এই ধরনের অস্পষ্ট ও ব্যাপক সংজ্ঞাবোধক শব্দ ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ ইসলাম প্রচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/mr3vcfdd


