চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি: চাঁদাবাজি, অপমৃত্যু, হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা

0
2

সাগরবেষ্টিত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় গত কয়েক দিনে একের পর এক অপমৃত্যু, শিশু নিখোঁজ, সাংবাদিক নির্যাতন, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

স্থানীয়রা গণমাধ্যকে জানায়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন দ্বীপের বাসিন্দারা। ওই সময় ঘাটে জরুরি চিকিৎসার জন্য অপেক্ষার মধ্যে সিরাজউদ্দীন (৭২) নামে এক ব্যক্তি মারা যান। এ নিয়ে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হলেও উপজেলা প্রশাসন বা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা বা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।

গত ২০ আগস্ট স্থানীয় সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন মনিকে অপহরণ করে তার ব্যাগে ইয়াবা ঢুকিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাব প্রতিবাদ জানালেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় মামলা করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া গত ২৮ আগস্ট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে রায়হান নামে এক কোরআনের হাফেজকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। একই দিনে কালাপানিয়া মাদরাসা মার্কেটে প্রকাশ্যে হাসান সওদাগর নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এর আগে ২৩ আগস্ট রাতে তুলাতলী বাজারে আকবর হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীর দোকানে ঢুকে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হন।

সম্প্রতি সারিকাইত এলাকায় আফরিন (১৭) নামে এক কিশোরী গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অন্যদিকে হারামিয়া ইউনিয়নে দুই সন্তানের জননী সুকতারা বেগমের (২০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গাছুয়ায় মেহেদি হাসান (১৯) নামে এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জেলেপাড়ায় এক কিশোরীর অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, মুছাপুর, মগধরা ও দীর্ঘাপাড় আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় তিন নারীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি গত এক সপ্তাহে অন্তত তিন শিশু নিখোঁজ হলেও পরিবারের সদস্যরা নানা আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেননি বলে জানা গেছে।

এদিকে গত দুই সপ্তাহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মচারীরা কয়েক দফা হয়রানির শিকার হয়েছে। ১৩ আগস্ট ইউএনওর ব্যক্তিগত সহকারী সাখাওয়াত হোসেনকে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে মীমাংসা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মচারীদের হয়রানির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অনেক কর্মকর্তা দ্বীপ থেকে বদলির চেষ্টা করছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


তথ্যসূত্র:
১। সন্দ্বীপে ভেঙে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা: অপমৃত্যু, হামলা ও উসকানিতে আতঙ্কিত বাসিন্দারা
– https://tinyurl.com/4pszepjb

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধফেনীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
পরবর্তী নিবন্ধনেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৫০, এখনো নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার