
পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে অবস্থিত আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সমর্থকরা। তারা কার্যালয়ের প্রবেশপথের দুটি সাদা স্তম্ভে গেরুয়া রং লাগিয়ে দেয় এবং প্রধান ফটকে গেরুয়া কাপড় ঝোলায়।
প্রায় ২০ থেকে ৩০ জনের ওই হিন্দুত্ববাদীদের অনেকের পরনে ছিল গেরুয়া পোশাক ও মাথায় গেরুয়া পাগড়ি। তারা ‘জয় শ্রীরাম’সহ বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী স্লোগান দিচ্ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, কিন্তু হিন্দুত্ববাদীদের কাজে কোনও বাধা দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে আনন্দবাজার কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্তম্ভগুলোর গেরুয়া রং মুছে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।
এই ঘটনার সূত্রপাত আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের একটি শিরোনামকে ঘিরে। ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দুত্ববাদী অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ২১ আগস্ট পত্রিকাটি ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে হিন্দুত্ববাদী গেরুয়া পোশাকধারীদের হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়।
হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতারা এই শব্দচয়নে আপত্তি প্রকাশ করে, তারা গেরুয়া রং ও হিন্দু ধর্মীয় প্রতীকের প্রতি অবমাননা আখ্যায়িত করে প্রতিবেদনটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
এজন্য আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দেয় পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ২৫ আগস্ট সে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। তার বক্তব্য ছিল, সংবাদপত্র সরকার বা মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতে পারে। কিন্তু ‘গেরুয়া’ রংকে আক্রমণ করা যাবে না। সে সতর্ক করে বলেছে, তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। ২৮ আগস্ট এক সভায় সে আরও বলেছে, গেরুয়া পোশাক পরা হাজার হাজার সাধু প্রস্তুত আছে, শুধু তার সম্মতির অপেক্ষা।
পরবর্তীতে পত্রিকার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। কিন্ত এসবের মধ্যেও আনন্দবাজার পত্রিকা শিরোনাম প্রত্যাহার করেনি বা ক্ষমা চায়নি।
সাংবাদিক সংগঠনগুলো এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, কোনও প্রতিবেদন বা শিরোনাম নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনি ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করা উচিত, কিন্তু সংবাদমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনাটি হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অসহিষ্ণুতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং হিন্দুত্ববাদী প্রতীক নিয়ে বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/35ktedwb
2. https://tinyurl.com/56xvzv5s


