১৪ বছর ধরে ছেলে হত্যার বিচারের জন্য অপেক্ষা, অবশেষে দলিত পিতার ট্রেনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা

0
0

ভারতে গুজরাটের সুরেন্দ্রনগর জেলার থাংগাধে ২০১২ সালে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিল দলিত যুবক পঙ্কজ সুমরা (১৬)। ছেলে হত্যার বিচারের দাবিতে প্রায় ১৪ বছর ধরে আইনি লড়াই করেছে পিতা অমরশীভাই সুমরা (৫৩)। কিন্তু বিচারের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো মর্মান্তিকভাবে। চলতি সপ্তাহে থাংগাধ ও লাখমনচির নিকটে একটি চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ভুক্তভোগী পিতা অমরশীভাই সুমরা।

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে থাংগাধের তরণেতর মেলায় দলিত ও ভারওয়াড় সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালালে ৩ দলিত যুবকের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলো পঙ্কজ সুমরা (১৬), মেহুল রাঠোড় এবং প্রকাশ পারমার। পুলিশের ওই গুলিবর্ষণ নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়। অনেক সমালোচক অভিযোগ করেছে, পুলিশের গুলিবর্ষণের পদক্ষেপটি ছিল অযৌক্তিক, অপ্রয়োজনীয় ও বেআইনি।

কিন্তু এর চেয়েও পরিতাপের বিষয় হলো বিগত ১৪ বছরেও উক্ত ঘটনার বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডের পরই ঘটনাস্থল, তরণেতর মেলার মাঠ এবং রেলওয়ে গেট পরিদর্শন করে তদন্তকারী টিম। তারা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন পরিমাপ এবং ভিডিও প্রমাণও সংগ্রহ করেছিল বলে জানা যায়।

নিহত ৩ যুবকের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, পঙ্কজের মৃত্যুর পর থেকেই অমরশীভাই ছেলের জন্য বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিল। দীর্ঘবছর ধরে সে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার জবাব চেয়েছে।

স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি রাখিবন্ধনের (একটি হিন্দু প্রথা) সময় মেয়েদের ভাইকে হারানোর শোক দেখে সে মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়ে। এরপরই সে আত্মহত্যার চরম সিদ্ধান্ত নেয়।

তার মৃত্যুর পর থাংগাধ গুলিকাণ্ডের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো ফের সামনে এসেছে। নিহত ৩ যুবকের পরিবার এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মীদের প্রশ্ন, ১৪ বছর আগে গঠিত তদন্ত টিমের রিপোর্ট এখনও কেন প্রকাশ্যে আনা হয়নি? পুলিশের গুলিবর্ষণের সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ ছিল, সেই সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল এবং তদন্তে কারও বিরুদ্ধে দায় প্রমাণিত হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

ঘটনাটি হিন্দুত্ববাদী ভারতে দলিত সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যকে আবারও সামনে এনেছে। এছাড়া এটি সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/3xt5mnrs

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধকাশ্মীরে গত ৩৭ বছরে দখলদার ভারতীয় বাহিনীর হাতে গুম হয়েছে হাজারও কাশ্মীরি, বিচার না পেয়ে স্বজনদের আহাজারি
পরবর্তী নিবন্ধবুরকিনা ফাসোতে জান্তা বাহিনীর ৭টি ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন জেএনআইএম যোদ্ধারা