
চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলামকে কার্যালয়ের ভেতরেই পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে সিবিএ (কালেক্টিভ বার্গেইনিং এজেন্ট) নেতাদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পাউবো কার্যালয়ে প্রকৌশলী মাহমুদেরর অফিস কক্ষে এ হামলার ঘটনা ঘটে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে সিবিএর কিশোরগঞ্জ শাখা কমিটির সভাপতি শোয়েব আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, মো. জাকির হোসেন ও ইশতিয়াক আহমেদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
হামলার শিকার মাাহমুদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মাস দুয়েক আগে কেন্দ্রীয় নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়া উপলক্ষে ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ তার কাছে চাঁদা দাবি করে। ওই সময় তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। বুধবার দুপুরে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি শোয়েব আহামেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে কিছু কর্মচারী তার অফিসকক্ষে ঢুকে চাঁদা না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে প্রকৌশলীর নাকে-মুখে কিল-ঘুসি মারা হয় এবং একটি কাঠের চেয়ার তুলে তার গায়ে আঘাত করলে ডান হাতের কব্জি ও বাম চোখের উপরে রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হন।
এ সময় ডাক-চিৎকার শুনে তার সহকর্মীরা এগিয়ে এসে তাকে হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধার এবং হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবুল কালাম গণমাধ্যমকে জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সিবিএ সভাপতি শোয়াইব ও সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সেখানে তারা দাবি করেছে, প্রকৌশলী মাহমুদ জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ষড়যন্ত্র করছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করতে গেলে উল্টো মাহমুদুলই সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলা চালায়।
সিবিএ নেতারা চিঠিতে প্রকৌশলী মাহমুদকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক দাবি করলেও প্রকৌশলী মাহমুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডি ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের সময় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। একইসঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে চব্বিশের ৩ আগস্ট জালিম বলে আখ্যা দেন। তখন তিনি বলেছিলেন, জালিমের পক্ষ নিয়ে কথা বললে আপনিও জালিম। অতিদ্রুত ক্ষমা চান এবং তওবা করেন।
তথ্যসূত্র:
১। চাঁদা না পাওয়ায় প্রকৌশলীকে রক্তাক্ত করলেন সিবিএ নেতা
– https://tinyurl.com/2rv639hz


