নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশের শাসন, মিডিয়া ও সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণের আসনে বসে আছে খালেদ মহিউদ্দিনের মত সেকুলাররা!

0
18

আল ফিরদাউস এর সম্পাদক মুহতারাম ইবরাহীম হাসান হাফিযাহুল্লাহ’র কলাম

সাম্প্রতিক সময়ে “ঠিকানায় খালেদ মহিউদ্দিন” চ্যানেলের সাংবাদিক ও এক্টিভিস্ট খালিদ মহিউদ্দিন তার “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘অজুহাত’: আর কত মাস? | পর্ব ৪৪ | উচিত কথা | খালেদ মুহিউদ্দীন” শিরোনামের পর্বে বেশ কিছু ভালো এবং বেশ কিছু পক্ষপাতদুষ্ট উচিত কথা বলেছেন। তার মাঝে একটি বক্তব্য ছিল এমন – ” ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে চোর ছাড়া লোক নাই, আপনারা কি রকম মুসলমান? তখন ধর্মের অবমাননা হয় না? “

শুধু এই একটি উক্তি পড়লে অনেক সরল এবং কল্যাণকামী বক্তব্য মনে হয়। কিন্তু পুরো বক্তব্যের উদ্দেশ্য যখন থাকে তৌহিদী জনতার শারঈ অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং শাতিমদেরকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কটুকথা বলার অধিকার দেয়া, তখন বক্তব্য আর সরল থাকে না।

প্রথম উচিত কথা, এই দেশে ৯০ ভাগ মুসলিম একথা সত্য। কিন্তু এই ৯০ ভাগ মুসলিমের নেতৃত্বে গত দুই শতাব্দীকাল ধরে বসে আছে খালিদ মহিউদ্দিনের মত সেকুলার লোকজন। দেশের শাসন ব্যবস্থা, নীতি নির্ধারণ, শিক্ষা খাত, মিডিয়া, কালচার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চাকরি, ব্যবসা সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ সেই সব সেকুলারদের হাতে যারা সবসময় নিজের ও নিজের প্রভু রাষ্ট্রের স্বার্থ দেখায় ব্যস্ত থাকে। এই সেকুলারগোষ্ঠী, যাদের নিজেদের নৈতিকতারই ঠিক নেই, তারা কিভাবে একটি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সঠিক নৈতিক পথে পরিচালিত করবে?

জনৈক মহিলা একবার হযরত আবু বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, “আল্লাহ তা’আলা জাহেলিয়াতের পর আমাদের যে উত্তম দ্বীন ও কল্যাণ (ইসলাম) দান করেছেন, এর ওপর আমরা কত দিন টিকে থাকতে পারব?” উত্তরে হযরত আবু বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন, “যত দিন তোমাদের শাসকরা (নেতৃবৃন্দ) সোজা বা সঠিক পথে থাকবে, তত দিন তোমরাও এই কল্যাণের ওপর টিকে থাকবে।”
মহিলাটি তখন আবার জিজ্ঞেস করলেন, “শাসক বা নেতা কারা?” আবু বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) উত্তর দিলেন, “তোমার গোত্রের কি এমন কিছু প্রধান বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি নেই, যারা আদেশ দিলে সাধারণ মানুষ তা মেনে চলে?” মহিলা বললেন, “হ্যাঁ, আছে।” আবু বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, “তারাই হলেন মানুষের নেতা।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং-৩৮৩৪)

দ্বিতীয় উচিত কথা, এই সেকুলার রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ও প্রাইভেট শিক্ষা ব্যবস্থা আগাগোড়া সেকুলার তথা ধর্মহীন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে “ইসলাম শিক্ষা” কেবলই একটি সাবজেক্ট। এখন আর এটাও শুধু ইসলাম শিক্ষা নয়, সাথে তাদের নিজস্ব বানানো নৈতিকতাসহ “ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা”, এই নৈতিক শিক্ষা যে কোন নৈতিক শিক্ষা সেটাও স্পষ্ট না। আর বাকি সকল বিষয়ের পড়াশুনায় ওহীর শিক্ষাবিহীন মনগড়া কিছু নৈতিকতার পসরা সাজানো হয়েছে। যে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য শুধু নিজের স্বার্থ দেখা তথা দুনিয়া কামাই করার পদ্ধতি শেখা, সেই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে নৈতিকতা আশা করা কি খালেদ মহিউদ্দিনদের জন্য আম গাছে কাঁঠাল আশা করার মত হয়ে গেল না? অথচ আল্লাহ তা’আলার রহমত এবং এ দেশের মুসলিম অভিভাবক ও আলিমদের সচেতনতায় এই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে এরপরও দ্বীনদার ছেলেমেয়ে বের হচ্ছে, তৌহিদী জনতা বের হচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ।

তৃতীয় উচিত কথা, শাতিমদেরকে তৌহিদী জনতা নিজেদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোকে অপরাধ সাব্যস্ত করা খালেদ মহিউদ্দিন কেন এই শাতিমদেরকে জবাবদীহি করার কথা বারবার ভুলে যায়? সেকুলার রাষ্ট্রের কাঠামো কতটা ভঙ্গুর হলে এবং কতটা পক্ষপাতদুষ্ট হলে বারবার এসব শাতিমদের জন্ম হয়? যতদিন এই সেকুলার রাষ্ট্র মত প্রকাশের নামে এই নিকৃষ্ট লোকদেরকে ইসলাম এবং ইসলামের নবীকে ( সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়ে কটূক্তি করার সাহস দিবে, ততদিন তৌহিদী জনতার কাঠগড়াও প্রস্তুত থাকবে, এই সহজ বিষয়টি সহজে বুঝা উচিত খালেদ মহিউদ্দিনের।

চতুর্থ উচিত কথা, এই সেকুলার রাষ্ট্রে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং তাই তারা ক্ষমতা দেখায়- এটা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য। এই রাষ্ট্রে কখনোই আলেম ও দ্বীনদারদের হাতে ক্ষমতা ছিল না, এমনকি আলেমদের শারঈ নৈতিকতা শেখানোর কণ্ঠও সবসময় চেপে ধরা হয়েছে। কারণ নাহলে যে, সেকুলার শাসকদের কুফর, দুর্নীতি, অত্যাচারের বিরুদ্ধে তৌহিদী জনতা ফুঁসে উঠবে, জন্ম হবে আরেক শাপলার কিংবা আরেক তালেবান অধ্যায়ের। এই রাষ্ট্রে মুসলিমরা সংখ্যায় গরিষ্ঠ কিন্তু প্রভাবের দিক থেকে সবসময়ই লঘিষ্ঠ। বরং ইসলামী শরীয়াহকে পদদলিত করা লোকজনই এখানে সবসময় শাসনে ও সমাজে নেতৃত্বের আসনে বসে আছে।

আল্লাহ তা’আলা দিনগুলোকে আবর্তন করেন। আমরা আশাবাদী এই সেকুলার রাষ্ট্রকে ইসলামী খেলাফতের দিকে নিয়ে যাওয়ার মত প্রজন্মের উত্থান ঘটছে। অচিরেই খালেদ মহিউদ্দিনরা তাদের তোলা আঙুল নিজেদের দিকেই তুলতে বাধ্য হবে। বিইজনিল্লাহ।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধপানিসম্পদ উন্নয়ন, কৃষিতে সেচসুবিধা সম্প্রসারণ এবং বন্যা মোকাবিলায় পাঁচ বছরে ১৫০টি ক্ষুদ্র বাঁধ নির্মাণ করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া