
আসামের নগাঁও জেলার লুটুমারি এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ছয়শতাধিক মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি বুলডোজারে ভেঙে দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এর আগে শনিবার নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।
লুটুমারি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, তারা কয়েক দশক ধরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বসবাস করে আসছে, তাদের আওতায় ৩০০ হেক্টরের বেশি জমি ছিল। জানা গেছে, ১৯৭৪ সালে তৎকালীন সরকারই ভূমিহীন এসব পরিবারকে ওই এলাকায় বসতি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছিল। অপরদিকে হিন্দুত্ববাদী সরকার তাদের ওপর জমি দখলের অপবাদ দিয়েছে।
আবদুল নূর (৪৪) নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা মূলত নিকটবর্তীয় জুরিয়া শহরের বাসিন্দা। আমাদের পূর্বপুরুষেরা ভূমিহীন ছিলেন। এ কারণে সরকার আমাদের এখানে বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করেছিল। মোট ৩০০টি ভূমিহীন পরিবারকে চার বিঘা করে জমি দেওয়া হয়েছিল।”
তিনি আরও জানান, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তারা গৌহাটি হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। তবে আদালত থেকে কোনো প্রতিকার পাননি। তার অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানে ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির মসজিদের বয়স ৫০ বছরেরও বেশি।
আসামের রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের হিসাব বলছে, গত এক দশকে রাজ্যে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে কথিত সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যেখানে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই মুসলিম।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/854d7df6


