
ভারতের হায়দ্রাবাদে মুসলিম পরিচয়ের কারণে ব্লিঙ্কিট নামক অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক ডেলিভারি কর্মীকে মারধর করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
ভুক্তভোগী মুসলিমের নাম হাবিব আনসারি। তিনি বিহারের বাঁকা জেলার বাসিন্দা। গত পাঁচ বছর ধরে হায়দ্রাবাদের গোলকোন্ডা এলাকায় বসবাস করছেন তিনি। পেশায় অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একজন পণ্য সরবরাহকারী কর্মী।
গত ৩ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে একটি অর্ডার পৌঁছে দিয়ে ফিরছিলেন হাবিব। এ সময় তিনি রাইদুরগাম থানার আওতাধীন পঞ্চবতী কলোনির একটি গুদামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে কয়েকজনের চিৎকার শুনে তিনি গাড়ি থামান।
এ সময় প্রায় ১০ জন উগ্র হিন্দুত্ববাদী তাকে ঘিরে ধরে। তারা তার পরিচয় জানতে চায়। তিনি মুসলিম জানতে পেরে তাকে বেধড়ক মারধর আরম্ভ করে।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে হাবিব রাস্তার পাশের একটি খাবারের দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও তাকে ছাড়েনি। দোকানের ক্রেতা ও বাবুর্চির সামনে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনা হয়। এরপর আবারও মারধর করা হয়। খাবারের দোকানে হামলার ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত হাবিবকে রাইদুরগাম থানায় নিয়ে যান। সেখানে এক উপপরিদর্শক (এসআই) পুলিশ সদস্যদের তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
চিকিৎসা শেষে থানায় ফিরে হাবিব দেখতে পান, অভিযুক্ত হামলাকারীরাও সেখানে উপস্থিত। অভিযোগ দায়ের না করতে তারা তাকে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাবিব বলেন, ‘তারা আমাকে অভিযোগ দায়ের করতে নিষেধ করে। অভিযোগ করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিল।’
হাবিবের অভিযোগ, এক পুলিশ কনস্টেবল অর্থের বিনিময়ে তাকে অভিযোগ না করতে বাধ্য করেছে। ওই কনস্টেবল তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
গত ৬ নভেম্বর রোববার মজলিস বাঁচাও তেহরিকের (এমবিটি) মুখপাত্র আমজেদ উল্লাহ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন হাবিব।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এমবিটি মুখপাত্র জানান, হামলার পুরো ঘটনা মোবাইল ফোনে রেকর্ড হয়েছিল। হামলার সময় হাবিব তার ভাইকে ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে হাবিব বলেন, ‘আমি তাকে নিজের অবস্থান জানানোর আগেই হামলাকারীরা আমার ফোন কেড়ে নেয়। তবে ফোনের কলটি বিচ্ছিন্ন হয়নি।’
এমবিটির মুখপাত্র আমজেদ উল্লাহ খানের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা গ্রহণ করেনি পুলিশ। এক ভিডিওতে খান বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মুসলিমদের লক্ষ্য করে অমুসলিমরা হামলা চালাচ্ছে এবং মারধর করছে। এসব ঘটনা তদন্তে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে না। মামলা হলেও পরবর্তী তদন্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ দেখা যায় না।’
ভিডিও লিংক: https://twitter.com/i/status/2118668874438877441
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/8usphafw

