
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার সত্ত্বেও ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার ইসরায়েলি হামলা এবং পূর্বের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা ও একটি শিশু রয়েছে।
চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলু জানিয়েছে, গাজা সিটির কেন্দ্রীয় এলাকায় পৌর পার্কের পাশে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হলে এক ফিলিস্তিনি শিশু শহীদ হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এর আগে ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর লেফটেন্যান্ট খালেদ শালুফ শহীদ হন। ইউনিভার্সিটি কলেজের ফটকের বাইরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
গাজার স্বরাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় শালুফের শাহাদাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, তিন দিনের মধ্যে গাজার প্রশাসনের অধীন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে এটি দ্বিতীয় হামলা। এর আগে ২ নভেম্বর, রোববার খান ইউনিসে ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন শহীদ হন।
এদিকে ২ নভেম্বর, সোমবার খান ইউনিসের জাপানি এলাকায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে আহত ৩৯ বছর বয়সী ইমাদ ওমর রাদি ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৯৯ ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ৫ হাজার ৭৭৪ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ। এসব হামলায় গাজার বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তথ্যসূত্র :
1. 3 Palestinians killed in Israeli attacks amid Gaza ceasefire violations
– https://tinyurl.com/kxrrevj9


