
ভারতে বিহার রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ শিরকি গান গাওয়ার মাধ্যমে দৈনিক কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন।
মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে এই গান দিয়ে দিন আরম্ভ করতে হবে। এছাড়া যেকোনও অনুষ্ঠানের সমাপনীতে বিহার রাজ্য সংগীত গাইতে হবে। রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর থেকে গত ২৬ এপ্রিল এই মর্মে একটি প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান, বিদ্যালয় এবং প্রধান জনসমাবেশে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গান পরিবেশন করা ইতোমধ্যে বাধ্যতামূলক করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আর সেই পথ ধরেই এবার বিহার সরকার তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই নিয়মকে আরও সুসংহত করতে পুনরায় নির্দেশ জারি করেছে।
হিন্দুত্ববাদী কর্মকর্তাদের দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা জাগ্রত করা এবং জাতীয় গর্বের অনুভূতি জাগ্রত করা।
‘বন্দে মাতরম’ শিরকি গান বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনার বিরুদ্ধে আরও আগে থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে ভারতের আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন।
তাদের মতে, গানটিতে কিছু শ্লোক রয়েছে যেখানে স্বদেশকে দেবতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ইসলামের মূল ঈমান-আকিদার পরিপন্থী। আর ঈমান-আকিদার পরিপন্থী গান গাইতে মুসলিমদের বাধ্য করা সাংবিধানিক মূল্যবোধের লঙ্ঘন।
মুসলমানরা কোনও ধরনের শরীক ব্যতীত এক আল্লাহর ইবাদত করে। এই ধরনের শিরকি নির্দেশনা মুসলমানদের ঈমান-আকিদাকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল।
এছাড়া এই নির্দেশিকার কঠোর সমালোচনা করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য সমালোচকবৃন্দ। তাদের মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ না করে সরকারের উচিত শিক্ষার মান, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়া।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/4b628cn5


