
এক সময় রাজধানী ঢাকায় এলাকাভিত্তিক কিছু ব্যক্তির নাম শুনলেই মানুষ আঁতকে উঠত। দিন-দুপুরে চাঁদা চেয়ে চিরকুট পাঠাত তারা। পুলিশকে জানালে হয়তো তাদের জীবনই চলে যাবে। এ কারণে অনেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানাত না। এভাবেই চলছিল, মাঝে কিছুটা কমলেও সম্প্রতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড। চাঁদাবাজি, দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীরা আবার খুনোখুনিতে লিপ্ত হচ্ছে। চারদিকে সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের পর থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে নিউ মার্কেটে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন অপর গ্রুপের হাতে নিহত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই অপরাধ সাম্রাজ্য। তারা প্রকাশ্যে খুনোখুনিতে লিপ্ত হওয়ায় জনমনে ভীতি সঞ্চার হচ্ছে।
দৈনিক আমার দেশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারেক সাঈদ মামুন নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় একদল সন্ত্রাসী। ওই গুলি লাগে কাছে থাকা মোটরসাইকেল আরোহী আইনজীবী ভুবন চন্দ্রের মাথায়। সে সময় থেকে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে আন্ডারওয়ার্ল্ড।
২০২৪ সালের ২৫ মে মধ্য বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় সাধন নামে এক ডিশ ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও লভ্যাংশ নিয়ে বিরোধের জেরে বিদেশে অবস্থানরত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নির্দেশে তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। ঢাকার বাড্ডা এলাকার ডিশ, ইন্টারনেট ও ঝুট ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং জমি দখলের মতো অপরাধগুলো পুলিশের খাতায় থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী রবিন ও ডালিম মালয়েশিয়ায় বসেই পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে দলবল নিয়ে মহড়া দেয় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন। এ নিয়ে সেখানকার ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রায়েরবাজারে সাদেক খান আড়তের সামনে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। ওই খুনের সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল জড়িত। প্রায় দুই যুগ পর জামিনে বের হওয়া পিচ্চি হেলালের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় ফের হত্যা মামলা হয়। গত বছরের ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে পুলিশের এক সময়ের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
সূত্র জানায়, রাজধানীতে এক সময় চাঁদাবাজি আর আধিপত্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টার গ্রুপের। দিন-দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে চলত এসব সন্ত্রাসীর অস্ত্রের মহড়া। এদের মধ্যে খিলগাঁওয়ের জিসান, মিরপুরের শাহাদাত, লিটু, কারওয়ান বাজারের আশিক, কল্যাণপুরের প্রকাশ, যাত্রাবাড়ীর ইতালি নাসির, মগবাজারের রনি, শাহ আলী এলাকার গাজী সুমন, আদাবরের নবী, মোহাম্মদপুরের কালা মনির উল্লেখ্যযোগ্য।
সূত্র জানায়, সবশেষ আন্ডারওয়ার্ল্ডের খুনোখুনিতে নিহত হয় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। ২০০১ সালে পুলিশ যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করে, সেখানে টিটনের নামও ছিল। তার ভগ্নিপতি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন। তারা দুজনই মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসীচক্র হারিছ-জোসেফ গ্রুপে যুক্ত ছিল। টিটনের তৎপরতা ছিল ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায়।
তথ্যসূত্র:
১। উত্তপ্ত আন্ডারওয়ার্ল্ড, অস্ত্রের ঝনঝনানি
- https://tinyurl.com/4nxy3fjt


