
আফগানিস্তানে ইমারাতে ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠার পর দেশটি শরিয়াহ আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। ইসলামি আদর্শে গঠিত এই শাসনব্যবস্থায় জনগণ যেন দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বিচারপ্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতার (অর্থাৎ বিচার পেতে অকারণ দেরি) বদলে এখন কার্যকরভাবে শরিয়াহভিত্তিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
ইমারাতে ইসলামিয়ার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ইমারাতে ইসলামিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের ৩৪টি প্রদেশে মোট ১ হাজার ১২১টি হত্যা মামলা শান্তিপূর্ণ সমঝোতা, সৌহার্দ্য ও দিয়াত (রক্তমূল্য) প্রদানের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদালতের কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা এবং আলেম, গোত্রীয় প্রবীণ ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় এসব মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। আদালত বলেছে, এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল পারস্পরিক শত্রুতা হ্রাস, দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের অবসান এবং সমাজে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, তারা শরিয়াহভিত্তিক বিচার বাস্তবায়ন, মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জুলুম প্রতিরোধে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মধ্যকার বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে একই সময়ে তিন স্তরের আদালতের রায়ের ভিত্তিতে এবং আমিরুল মুমিনীন হাফিযাহুল্লাহর অনুমোদনক্রমে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ১২ ব্যক্তির ওপর কিসাস কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট উল্লেখ করেছে, যেসব হত্যা মামলায় সন্দেহ বা অস্পষ্টতা থাকে, শরিয়াহর নীতিমালা অনুযায়ী সেখানে কিসাসের বিধান রহিত হয়ে যায় এবং মামলাগুলোকে তাজির, দিয়া অথবা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির দিকে পরিচালিত করা হয়।
বিচার বিভাগের এমন উদ্যোগে সাধারণের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে শরিয়তের শান্তিপূর্ণ পথ বেছে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এতে দেশে আইনের শাসন সুসংহত হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র
1. Supreme Court Resolves Over 1,100 Murder Cases Through Peace, Reconciliation
– https://tinyurl.com/2kkrjpv7


