
সম্প্রতি ঢাকার মিরপুরে একটি মন্দিরের পাশে বিতর্কিত খালি জায়গায় কলাগাছ কেটে ফেলাকে কেন্দ্র করে হিন্দুরা এর অভিযোগ দিয়েছে ভারতের কাছে। এ ঘটনায় এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
জানা যায়, মিরপুরে অবস্থিত ‘স্বর্গীয় চাঁন মোহন মারুল সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির’-এর পাশের একটি খালি জায়গার মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি ওই জায়গায় থাকা কলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে।
গত ২৭ জুন দৈনিক নয়া দিগন্ত এক ভিডিও প্রতিবেদনে জানায়, যুবদলের পরিচয় ব্যবহার করে একদল ব্যক্তি ওই এলাকায় দখলের চেষ্টা চালায় এবং কলাগাছ কেটে ফেলে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।
মহানগর যুবদলের এক নেতা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানায়, ঘটনার সঙ্গে যুবদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাসির মোল্লা নামের এক ব্যক্তি যুবদলের নাম ব্যবহার করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সে পতিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
জানা যায়, মন্দিরসংলগ্ন জমিটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে, যা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই চলমান। ধারণা করা হচ্ছে জমিটি সরকারি, যার ফলে জমির মালিকানা সম্পর্কিত কোনো বৈধ কাগজপত্র মন্দির কর্তৃপক্ষও দেখাতে পারেনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এলাকাটির বিশাল জায়গাজুড়ে সরকারি জমি দখল করে বিভিন্ন বস্তি গড়ে তুলেছে এবং তারা সেখান থেকে ভাড়া আদায় করছে।
এদিকে, বিষয়টি ভারত সরকার এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে কে জানিয়েছে, সাংবাদিকরা সে বিষয়ে জানতে চাইলে মন্দিরের সহ-সভাপতি জানায়, এ বিষয়ে সে অবগত না। সে জানায়, ‘আমি বিষয়টি জানি না। আমি নিয়মিত মন্দিরে থাকি। অন্য কেউ যদি এ ধরনের কোনো অভিযোগ করে থাকে, সেই বিষয়ে আমার জানা নেই।’
এলাকার হিন্দু বাসিন্দারা সাংবাদিকদের জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছেন এবং এলাকাটিতে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নেই।
শান্তিপূর্ণ অবস্থান সত্ত্বেও বিতর্কিত একটি জায়গায় কলাগাছ কাটার ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে ভারতের কাছে অভিযোগ দেয়ার বিষয়টি হিন্দুদের উদ্দেশ্যমূলক এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র:
১। মন্দিরের কলাগাছ কাটার অভিযোগ গেল ভারতে! নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, তোলপাড় ঢাকায়!
– https://tinyurl.com/2s39npe2


