শেয়ার বাজারে লেনদেন পৌনে দুই বছরের সর্বনিম্নঃ হুমকির মুখে অর্থনীতি

0
592
শেয়ার বাজারে লেনদেন পৌনে দুই বছরের সর্বনিম্নঃ হুমকির মুখে অর্থনীতি

অব্যাহত দরপতনে তলানিতে নেমেছে শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ। মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে মাত্র ২৩৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা পৌনে দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগের সর্বনিম্ন লেনদেন হয় ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ, যেদিন এ বাজারে কেনাবেচা হওয়া শেয়ারের মূল্য ছিল ২২৪ কোটি টাকা।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, দরপতনে লোকসান এতটাই বেড়েছে যে, সিংহভাগ বিনিয়োগকারী নতুন করে বিনিয়োগ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন। এমনকি কোনো শেয়ার লোকসানে বিক্রি করে অন্য শেয়ার কেনার সাহসও হারিয়েছেন অনেকে। কারণ অন্য শেয়ারেও বিনিয়োগ করে মুনাফা করার নিশ্চয়তা নেই।

ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা জানান, বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই শেয়ারবাজারে আসা অনেক আগেই ছেড়েছেন। অল্প কিছু বিনিয়োগকারী এখন শেয়ার কেনাবেচা করছেন। দরপতনে অনেক শেয়ারের দর কয়েক বছরের সর্বনিম্ন নেমে আসায় কেউ কেউ এসব শেয়ার কিনছেন।

মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৭৯টি দর হারিয়েছে। বিপরীতে বেড়েছে ১১২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬২টির দর। দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৬৭ কোম্পানির শেয়ার ও ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১১৭টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৬টির দর।

বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমলেও সূচকের পতন সেভাবে হয়নি। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএপ ৩ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৪৩৯০ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে নেমেছে। দর হারানো শেয়ার সংখ্যার তুলনায় সূচক অপেক্ষাকৃত কম কমার কারণ, বৃহৎ মূলধনি কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষত স্কয়ার ফার্মার শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ৯০ পয়সা দরবৃদ্ধির কারণে ডিএসইএপ সূচকে যোগ হয়েছে সাড়ে ৮ পয়েন্ট। এছাড়া ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন প্রায় ৪ পয়েন্ট এবং অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ দেড় পয়েন্ট যোগ করেছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ছাড়া বাকি খাতের বেশিরভাগ শেয়ারদর কমেছে। সোমবারের মতো গতকালও খাতওয়ারী দর কমার শীর্ষে ছিল সিরামিক খাত। এ খাতের ৫ কোম্পানির সবগুলো দর হারিয়েছে। বড় খাতের মধ্যে বীমার দরপতন ছিল বেশি। এ খাতের ৪৭ কোম্পানির মধ্যে ৩২টি দর হারিয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২২ কোম্পানির মধ্যে ১০টির দর বেড়েছে ও কমেছে ৪টির। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১৯ কোম্পানির মধ্যে ৬টির দর বেড়েছে ও কমেছে ১২টির। প্রকৌশল খাতের ৩৮ কোম্পানির মধ্যে ১৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৯টির। ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৩২ কোম্পানির মধ্যে ৭টির দর বেড়েছে, কমেছে ২০টির। বস্ত্র খাতের লেনদেন হওয়া ৫৫ কোম্পানির মধ্যে ১৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ৩০টির।

পৌনে ৮ শতাংশ দর হারিয়ে গতকালের দরপতনের শীর্ষে ছিল মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স। এছাড়া প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাড়ে ৮ শতাংশ এবং এমারেল্ড অয়েলের সোয়া ৮ শতাংশ দরপতন হয়েছে। প্রগ্রতি ইন্স্যুরেন্স, তাল্লু স্পিনিং ও সমতা লেদার ৬ শতাংশের ওপর দর হারিয়েছে। ৫ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে দরপতনের তালিকার ওপরের দিকে ছিল ফ্যামিলি টেপ, সোনালী আঁশ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক এবং পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

দরপতনের মধ্যেও গতকাল কিছু শেয়ারের দর উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে।

সুত্রঃ সমকাল

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন