‘এই নাও আজাদি’ বলে জামিয়ার শিক্ষার্থীদের উপর গুলি চালাল সন্ত্রাসী হিন্দু যুবক

0
963
‘এই নাও আজাদি’ বলে জামিয়ার শিক্ষার্থীদের উপর গুলি চালাল সন্ত্রাসী হিন্দু যুবক

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে গুলি চালিয়েছে এক বন্দুকধারী। এতে এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার গুলিবর্ষণের সময় বন্দুকধারী চিৎকার করে বলে, ‘এই নাও তোমাদের আজাদি (মুক্তি)। দিল্লি পুলিশ জিন্দাবাদ। হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ।’

বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর দিল্লিতে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘গুলি করে মারো শালাদের’ স্লোগান দেওয়ার কয়েকদিন পর এই ঘটনা ঘটলো।

জামিয়ার শিক্ষার্থী আমনা আসিফ এনডিটিভিকে বলেন, আমরা ব্যারিকেডের কাছে যখন দাঁড়িয়ে ছিলাম তখন এই বহিরাগত, যাকে আমরা কেউ চিনি না, সে আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বিঘ্ন ঘটায়। হাতে রিভলবার নিয়ে সে এগিয়ে আসে। আমরা সবাই তাকে থামাতে ও শান্ত করতে চেষ্টা করছিলাম। আমরা লোকটির দিকে এগিয়ে গিয়ে থামাতে চেষ্টা করি। পুলিশও উপস্থিত ছিল। কিন্তু পুলিশ সেখানে অটল দাঁড়িয়ে থাকে। আমরা যখন ওই লোকের হাত থেকে রিভলবার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করি, তখন সে আমাদের এক বন্ধুকে গুলি করে।

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তি হামলার পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ শুরু করেছিল। বৃহস্পতিবার গুলি করার আগে রাম ভক্ত গোপাল নামের এই ব্যক্তি ফেসবুকে তার কর্মকাণ্ড সরাসরি প্রচার করে। তার গুলিতে জামিয়ার এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এখবর জানিয়েছে।

হামলাকারী নিজেকে রামভক্ত গোপাল বলে পরিচয় দিয়েছে। তার ফেসবুকে লাইভ ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমটিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা ওই অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে ফেলা হয়।

ফেসবুক প্রোফাইলে গোপাল নিজের সম্পর্কে লিখেছে, ‘রাম ভক্তিই যথেষ্ট, বাকিটা সময় আসলে দেখা যাবে’।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দিল্লির শাহীন বাগে চলমান আন্দোলনের বিরুদ্ধে তার প্রোফাইলে বেশ কিছু উক্তি রয়েছে। এছাড়া প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনাও পাওয়া গেছে। এক পোস্টে সে বলেছে, ‘শাহীনবাগ… গেম ওভার’।

এক পোস্টে সে তার বন্ধুদের আহ্বান জানিয়েছে ফোন না করার জন্য। তার সবগুলো পোস্ট হিন্দি ভাষায় প্রকাশ করা।

জামিয়ার শিক্ষার্থীদের জমায়েতে গুলির পর বিক্ষোভকারীরা তাকে ধরে ফেলে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন