সরকারি আশ্বাসেই কেটে গেছে এক দশক

0
491
সরকারি আশ্বাসেই কেটে গেছে এক দশক

ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে পঞ্চগড়ের তালমা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায়। ভাঙনে ওই এলাকার প্রাচীন রাস্তাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে ফসলি জমি, মসজিদ, কবরস্থান ও পার্শ্ববর্তী জনবসতিও। গত এক দশক ধরে নদীটির ওই অংশ ভাঙতে ভাঙতে এই অবস্থায় পৌঁছালেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতিবছর বর্ষা এলেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এসে ছবি তুলে নিয়ে যান, বাঁধের আশ্বাস দেন কিন্তু তা আজও বাস্তবে দেখা মিলেনি। এবারের ভাঙন বেশ চিন্তায় ফেলেছে গ্রামবাসীকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চগড়ের দেওয়ানহাট থেকে কাঁচা রাস্তাটি গিয়ে ঠেকেছে ফকিরপাড়া গ্রামটিতে। গ্রামে প্রবেশের ঠিক আগে প্রায় কিলোমিটারের মতো জায়গা জুড়ে রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কের গাছপালাও নদীগর্ভে চলে গেছে। পায়ে চলার মতো যেখানে পথটুকু রয়েছে সেখানেও বড় বড় ফাটল দেখা গিয়েছে। প্রতিদিনই ভাঙনের পরিধি বাড়ছে। ভাঙনের মাথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে গ্রামের মসজিদ, কবরস্থান, ঘরবাড়ি আর ফসলি জমি। গ্রামে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটি নদীগর্ভে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ। ভারি যানবাহনতো দূরের কথা একটি ভ্যান পর্যন্ত গ্রামে প্রবেশের সুযোগ নেই। জরুরি প্রয়োজনেও তাদের ভাঙনের অংশ হেঁটে পাড় হয়ে পড়ে অন্য মাধ্যমে যেতে হয়।

স্থানীয়দের জানান, এই রাস্তাটি অনেক পুরনো। গত এক দশক ধরে রাস্তাটিতে ভাঙন চলছে। প্রতি বছরই তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে বাঁধের আকুতি জানান। কিন্তু তারা প্রতিবছরই আশ্বাস দিলেও আজও তার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। সময় মতো বাঁধ নির্মাণ করা গেলে রাস্তাটি অক্ষত রাখা রাখা যেত বলেও জানান তারা। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। এখন ভাঙনের চিন্তায় তাদের রাত কাটছে নিদ্রাহীন।

ফকিরপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামের একমাত্র রাস্তাটির বেশিরভাগ অংশই তালমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন একটি ভ্যান পাড় করার মতো অবস্থা নেই। পায়ে হেঁটে চলতে হলেও খুব সাবধানে যেতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে বা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেও আমাদের দ্রুত নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। খুব সমস্যায় পড়ে গেছি। দিন দিন ভাঙন আরো বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, মসজিদ ও কবরস্থানসহ সব নদীগর্ভে চলে যাবে।

ওই গ্রামের আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে নদীটি ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করে। আমাদের একমাত্র রাস্তাটি ভেঙে যাওয়া আমরা এখন কৃষিপণ্য হাটে নিতে পারছি না। সার বীজ পরিবহণ করতে পারছি না। আমরা এখানে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

ওই গ্রামের সালমা বেগম বলেন, আমাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করতো। এখন রাস্তাটি দিয়ে কেবল পায়ে হেঁটে যাওয়া হয়। তাও সেখানে সেখানে ফাটল। তাই শঙ্কায় থাকি আমরা।

ওই গ্রামের কামরুল ইসলাম বলেন, দিনেই এখন রাস্তাটি ধরে হাঁটতে ভয় করে। রাতে অনেকেই মসজিদে নামাজ পড়তে আসতে পারে না। কখন কোনো খাদে পড়ে যায় এই ভয় এখন সবার।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, নদীটির মতো রাস্তাটিও প্রাচীন। এখন রাস্তাটি অনেক অংশই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রতি বছরই জানিয়েছি। সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। প্রতি বছর তারা আসে ছবি তুলে নিয়ে যায় কাজ হয় না। সময় মতো বাঁধ নির্মাণ করা গেলে গ্রামের একমাত্র রাস্তাটি আজ নদীতে বিলীন হতো না। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ করা না গেলে এ গ্রামের আরো অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

সাড়ে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তালমা নদীটি ভারত থেকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা দিয়ে প্রবেশ করে করতোয়া নদীতে মিলেছে। আগে নদীটি প্রবল খরস্রোতা হলেও এখন কেবল বর্ষাকালে নদীটিতে পানির বেশ তোড় দেখা যায়। কালের কন্ঠ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন