খোরাসান | তালেবানের উপপ্রধান মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার (হাফি.) এর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বাধ্য হয়েছে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0
733
খোরাসান | তালেবানের উপপ্রধান মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার (হাফি.) এর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বাধ্য হয়েছে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যা বেলায় ইমারতে ইসলামীয়া আফগানিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান মুহতারাম মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার (হাফিজাহুল্লাহ্) সহ তালেবানদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি কথা বলেছে দখলদার আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী “মাইক পম্পেওর”।

কাতারে অবস্থিত ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের রাজনৈতিক দপ্তরের মুখপাত্র মুহতারাম সোহাইল শাহিন হাফিজাহুল্লাহ্ এ খবর নিশ্চিত করে এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ভিডিও কনফারেন্সে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর ও ইমারতে ইসলামিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মুহতারাম মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার (হাফিজাহুল্লাহ্) সহ তালেবানদের প্রতিনিধি দল, আন্তঃ আফগান আলোচনার সূচনা এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসময় ইমারতে ইসলামিয়ার প্রতিনিধি দলের সাথে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আন্তঃ আফগান আলোচনা শুরুর জন্য তালেবানদের অবশিষ্ট বন্দীদের মুক্তি দেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।

এছাড়াও, উক্ত ভিডিও কনফারেন্সে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদুল আযহা উপলক্ষে ইমারতে ইসলামিয়ার ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে।

এমন সময় উভয় দলের মাঝে এই কথোপকথন অনুষ্ঠিত হলো, যখন ক্রুসেডার আমেরিকার মদদপুষ্ট কাবুলের ঘানি সরকার ৪০০ কারাবন্দী তালেবান মুজাহিদকে চুক্তির অনুযায়ী মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এদিকে তালেবান চুক্তি অনুযায়ী ঈদের আগেই কাবুল সরকারের ১০০০ কারাবন্দীকে মুক্তি দেয়া সম্পূর্ণ করেছেন। বিপরীতে কাবুল সরকার ৪৬০০ মুজাহিদকে মুক্তি দেওয়ার পর বাকি কারাবন্দী মুজাহিদদের মুক্তি না দেওয়ার টালবাহানা করে যাচ্ছে। এদিকে তালেবান আন্তঃ আফগান আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে কাবুল সরকারের কারাগারগুলোতে আটক তাদের সব বন্দিকে মুক্তি দিতে বলেছেন।

ইমারতে ইসলামিয়াকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে ২০০১ সালের শেষের দিকে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়েছিল ক্রুসেডার আমেরিকা । কিন্তু প্রায় দুই দশকের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পরেও তাদের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে, বিপরীত তালেবান ২০০১ সালের পূর্বের তুলনায় এখন আরো শক্তিশালি, সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত হয়েছে। পরাজিত হয়েছে অহংকারী ক্রুসেডার আমেরিকা। আর এখন ইমারতে ইসলামিয়াকে ধ্বংস করতে না পেরে আফগানিস্তান থেকে চলে যাওয়ার জন্য খোদ আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো একজন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তা সেই তালেবানের সঙ্গে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে বাধ্য হচ্ছে। আল্লাহু আকবার।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন