কেমন স্বাধানীতা দিবস উদযাপন করছে ভারত ?

0
862
কেমন স্বাধানীতা দিবস উদযাপন করছে ভারত ?

কাশ্মীরে সন্ত্রাসী সরকারি বাহিনীর গুলিতে মাত্র কিছুদিন আগে নিহত পিতামহের বুকের উপর এক ছোট্ট শিশুর বসে থাকার ছবি কারো মন-মমন থেকে সহজে মুছে যাওয়ার নয়। কাশ্মীরী তরুণী ও শিশুদের রক্তমাখা সুন্দর মুখ, পেলেট গানের বুলেটে বিদ্ধ লোকজন, শুধু চরম বেদনা ও আতঙ্কেই পূর্ণ থাকতে পারে। প্রাচীন মসজিদ—বাবরি মসজিদ গুড়িয়ে দিয়ে তার জায়গায় হিন্দুদের রাম মন্দির নির্মাণের বিরুদ্ধে কোনরকম প্রতিবাদ, এমন কি হতাশা প্রকাশেরও সাহস নেই মুসলমানদের। উত্তরপূর্ব ভারতে বাংলাভাষী জনগণ নিজেদের মাতৃভূমি থেকে উচ্ছেদের হুমকি পেয়ে থর থর করে কাঁপছে। ভারতের রাজধানী দিল্লীতে নারীরা পর্যন্ত ধর্ষিতা হওয়ার আশঙ্কায় বাসে চড়তে ভয় পায়। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর এই দিল্লী।

এরই মধ্যে স্বাধীনতা উদযাপন করছে ভারত।

কেমন স্বাধীনতা? এটা কি স্বাধীনতা?

এটা কি স্বাধীনতা যেখানে মিডিয়ার গলা টিপে ধরা হয়েছে অথবা অনুগত বা মোদির মেশিন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে? যেখানে রাস্তায় নারীর নিরাপত্তা নেই? যেখানে কোন পুরুষ যদি অবিচারের প্রতিবাদ করে তাহলে তাকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়?

অবশ্যই না।

ভারত যদি সত্যিকারের স্বাধীনতা উদযাপন করতো তাহলে এর দারিদ্রপীড়িত রাজ্যগুলোর নাগরিকরা কি বাংলাদেশে যোগ দিতে চাইতো, যেখানে তারা কিছুটা উন্নয়নের ছটা দেখতে পায়? কাশ্মীর কি তার রাজ্য মর্যাদা হারিয়ে দিনের পর দিন রক্তে হাবুডুবু খেতো? কোভিডের জন্য মুসলমানদের উপর দায় চাপানো হতো, নিম্নবর্ণের হিন্দুরা এখনো অচ্ছুৎ বিবেচিত হতো?

এই হলো ভারত। এই সেই ভারত যে তার স্বাধীনতার ৭৩ বছর উদযাপন করছে।

ভারতে এখনো রিপোর্টার ও অন্যান্য ভিন্নমতাবলম্বী কণ্ঠের জন্য নিপীড়নের ক্রমবর্ধমান ভয়। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের প্রেস ফ্রিডম সূচকে ২০১৫ সালের ১৩৬তম থেকে ভারতের অবস্থান ২০২০ সালে ১৪২তম স্থানে নেমে গেছে। মাত্র ৫ বছরে এই অবনতি।

এটা স্বাধীনতা নয়।

এর বদলে নেতা, রাজনীতিক ও সরকারযন্ত্র তাদেরকে নীচে টেনে নামিয়েছে। লজ্জা ও ঘৃণায় তাদের মাথা হেট হয়ে গেছে, যখন তারা দেখছে আঞ্চলিক সম্পর্কে অগ্রগতি না হয়ে অধোগতি সৃষ্টি হয়েছে।

তারা ‘আমান কি আশা’ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলো। ‘শান্তির আশা’য় উদ্যোগ নিয়েছিলো দুটি মিডিয়া হাউজ—পাকিস্তানের জং গ্রুপ ও ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেই উদ্যোগ বাতাসে মিলিয়ে গেছে এবং দিব্যি দেয়া শত্রুরা তেমন শত্রুই থেকে গেছে। কারণ ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্ন লোকরঞ্জনবাদী নেতারা গেরুয়া কুজ্ঝটিকা ভেদ করে কিছু দেখতে পাননা।

জনগণ এই ভারত চায়নি। তারা চেয়েছিলো নেপাল তাদের বন্ধু হবে, বেপরোয়া প্রতিবেশী হবে না, যে কিনা তাদের মানচিত্র নতুন করে এঁকেছে, আর ভারত শুধু চেয়ে দেখছে।

ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা চীন যখন বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কাসহ সব প্রতিবেশী এবং এর বাইরের দেশগুলোর মন জয় করতে ব্যস্ত তখন দীপ্তি হারাচ্ছে ‘শাইনিং ইন্ডিয়া’।

তাই ভারত যখন স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপন করছে, তখন দেশটির জনগণ এক মুহূর্তের জন্য হলেও ভাবছে স্বাধীনতা যাকে বলে এগুলোই কি সেই?

কাশ্মীরীরা স্বাধীনতা চায়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজগুলোকে বলপ্রয়োগ করে দমিয়ে রাখা হয়েছে। তাই বলে তাদের মধ্যে কি স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নেই, যেখানে তাদের সম্পদ তাদেরই উন্নয়নের কাজে লাগবে, দিল্লীতে পাচার হয়ে যাবে না?

জনগণ শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখের সঙ্গে বাঁচতে চায়, যেগুলোর প্রতিশ্রুতি তাদের দেয়া হয়েছিলো। তাদের মধ্যে যারা অনেক বেশি হকিশ, ভারত পরাশক্তি হবে বলে যাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তারাও বুঝতে পেরেছে যে পরাশক্তি হতে গেলে শক্তির চেয়েও বেশি কিছু প্রয়োজন। মার্ভেল কমিক সুপার হিরো স্পাইডারম্যানের ভাষায়: ‘মহা শক্তির সঙ্গে মহা দায়িত্বও আসে।’ আর, মোদি মেশিনের ব্যর্থতা এখানেই। সাউথ এশিয়ান মনিটর

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন