এবার বাংলাদেশকে পঁচা গোশত দিলো ভারত

0
1318
এবার বাংলাদেশকে পঁচা গোশত দিলো ভারত

চট্টগ্রাম বন্দরে ভারত থেকে আসা পঁচা মহিষের গোশত নিয়ে তোলপাড় চলছে। দুর্গন্ধে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বন্দর ইয়ার্ডে। গোশতভর্তি কন্টেইনারের আশপাশেও যাওয়া দায় হয়ে পড়েছে। শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা দুর্গন্ধের সাথে সেখানে মাছি উড়ছে ভনভন করে। এতে বন্দরের জেটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জানা গেছে, ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা নিম্নমানের ভারতীয় মহিষের গোশত দিয়েছে। এতে একদিকে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। অন্যদিকে দেশীয় প্রাণিসম্পদ খাতে পড়ছে বিরূপ প্রভাব।

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী ঢাকার ১১১, বীর উত্তম সিআরদত্ত রোডের ইগলু ফুডস লিমিটেড ভারত থেকে ৪০ ফুট কন্টেইনারে প্রায় ২৮ মেট্রিক টনের মতো মহিষের গোশত নিয়ে আসে। কন্টেইনারটি খালাসের দায়িত্ব পায় আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার মক্কা-মদিনা ট্রেড সেন্টারের ১২ তলায় অবস্থিত মেসার্স কর্ণফুলী লিমিটেড নামের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান। গোশতভর্তি কন্টেইনারটি জাহাজ থেকে নামিয়ে ইয়ার্ডে রাখার পরপর সেখান থেকে চরম দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। এতে সেখানে কর্মরত বন্দর শ্রমিক-কর্মচারী এবং পরিবহন চালক-সহকারীদের শ্বাস বন্ধের উপক্রম হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম বলেন, ভারত থেকে আসা মহিষের গোশতের ওই কন্টেইনারটি বন্দরের ইয়ার্ডে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ফ্রিজার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমদানি করা গোশত পঁচে গেছে। তিনি জানান, ভারত থেকে মহিষের গোশত আমদানি হচ্ছে। এসব চালান খালাস করতে হলে আমদানিকৃত গোশত জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক নয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের এমন সনদ নিতে হয়। ইদানিং প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে এমন সনদ দেয়া বন্ধ থাকায় আমদানিকারকরা আদালতের আশ্রয় নিচ্ছেন। শুল্ক পরিশোধ করে এসব আমদানি গোশত তারা ছাড় করে নিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, মহিষের গোশতভর্তি কন্টেইনারটি রেফার ইয়ার্ডে রয়েছে। মাসখানেক আগে কন্টেননারটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সেটি খালাস কিংবা অপসারণ না করলে নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেটি নিলামে তুলবে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের করার কিছু নেই। তবে পরিবেশ দূষণ যাতে না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে ভারত থেকে আসা পঁচা গোশতের বিষয়টি পরিবেশ অধিদফতরের নজরে নেয়া হয়। খবর পেয়ে অধিদফতরের কর্মকর্তারা বন্দর ইয়ার্ডে গিয়ে কন্টেইনারটি পরিদর্শন করেন। তারা সেখান থেকে পঁচা গোশতের দুর্গন্ধ বের হওয়ার প্রমাণ পান। কন্টেইনারটি ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ করার প্রমাণও পান পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। ইনকিলাব

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধফটো রিপোর্ট | মু’আয বিন জাবাল সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প- খোরাসান
পরবর্তী নিবন্ধভারতে প্রতি ১৬ মিনিটে এক মেয়ে ধর্ষিত হয়: এনসিবি