আধিপত্য কেন্দ্র করে ত্রাস সৃষ্টি আওয়ামী লীগ বাহিনীর

0
615
আধিপত্য কেন্দ্র করে ত্রাস সৃষ্টি আওয়ামী লীগ বাহিনীর

বগুড়ায় মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকার দলীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সদর থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বগুড়া সদর থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়।

বুধবার সকালে বগুড়ার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে এবং পরবর্তীসময়ে আটক ১৪ জনকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এদিকে মোটর মালিক গ্রুপের একাংশের ডাকা অনির্দ্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট আজ দুপুরে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুপুরে পর থেকে সব রুটে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। বগুড়ার চারমাথা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চত্বরে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএসবি) কনস্টেবল রমজান আলীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকের মতামত পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হতে পারে।

মঙ্গলবার চারমাথা বাসটার্মিনাল চত্বরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় পুলিশ কনস্টেবল রমজান আলীকে ছুরিকাঘাতসহ সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক নান্নু খান বাদী হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ২৫০ নেতাকর্মীর নামে মামলা করা হয়েছে।

অপরদিকে মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে তার অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম মোহনকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে দেড় শতাধিক নেতাকর্মীর নামে আরেকটি মামলা করেছেন।

এ ছাড়া মঞ্জুরুল আলম মোহনের পক্ষে তার ছোট ভাই মশিউল আলম দীপন বাদী হয়ে পেট্রল পাম্প ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগে আমিনুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে শতাধিক নেতাকর্মীর নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে, আমিনুল পক্ষের ডাকা অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক হয়। বৈঠকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরের পর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞা জানান, ফলপ্রসু আলোচনার পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম মোহনের পক্ষে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মালিক সমিতির বিগত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফটিক অধিকারী। তিনি মোহনসহ অন্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের একপেশে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। সেইসঙ্গে সাধারণ মালিকদের ওপরে হামলায় জড়িত আমিনুল ও তার সহযোগিদেরও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

বগুড়ায় পুলিশের মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, ডিএসবির কনস্টেবল রমজান আলীকে ছুরিকাঘাতকারীকে এরই মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অনেকেই তিনটি মামলার কমন আসামি।

মঞ্জুরুল আলম মোহন এবং আমিনুল ইসলামের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ আমাদের সময়

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন