খাবার মুড়ে দেওয়া কাগজে হিন্দু দেব দেবীর ছবি থাকায় মুসলিম বৃদ্ধের উপর হামলা, গ্রেফতার

উসামা মাহমুদ

0
751

ভারতের উত্তরপ্রদেশে তালেব মুহাম্মদের দীর্ঘদিনের খাবারের দোকান। প্লাস্টিকের প্যাকেট বন্ধ হওয়ার কারণে তিনি খবরের কাগজে মুড়ে ইদানীং খাবার দিচ্ছিলেন ক্রেতাদের। মূলত, মুরগির মাংসের তৈরি খাবারই বানাতেন তালেব।

পুরনো খবরের কাগজ কিনেছিলেন তালেব একটি দোকান থেকে। তার কোনও একটির মধ্যে হিন্দু দেবতাদের ছবি ছিল কিনা তারও কোন প্রমাণ নেই। আর এমনিতে পুরাতন পত্রিকায় তো কত কিছুই থাকে। যা পুরাতন হয়ে গেলে ময়লা আবর্জনা, নর্দমা-ড্রেনে, এমনকি মানুষের পায়ের নিচেও পড়ে। সে দিকে কেউ ভ্রক্ষেপও করে না। কিন্তু মুসলিম ব্যক্তিকে হয়রানি করার জন্য কোন এক হিন্দু ক্রেতা সেইরকম একটি কাগজ পেয়ে সন্ত্রাসী দল হিন্দু জাগরণ মঞ্চের গুণ্ডাদের খবর দেওয়ার পরেই শুরু হয় গণ্ডগোল। তারা পুলিশকে জানায় এবং নিজেরা এসেও হামলা করে। পরে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ এসে কোন ধরণের তদন্ত ছাড়াই তালেব মুহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

আজ থেকে বেশ কিছু বছর আগে ২০১৫ সালে, ৫২ বছরের আখলাককে পিটিয়ে মারা হয়েছিল, তাঁর বাড়ির ফ্রিজে গরুর মাংস আছে কী না- সেই সন্দেহে। সেটাই ছিল খুব সম্ভব শুরু, তারপর মাদ্রাসার ছাত্র জুনাইদের টিফিনবক্সে গোমাংস আছে কী না, সেই সন্দেহে ১৫ বছরের ছেলেটিকে ট্রেন থেকে ফেলে খুন করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। এইরকম আরও বহু উদাহরণ আছে।

এভাবে ধীরে ধীরে এগুতে এগুতে ভারতের পরিস্থিতি এখন ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করছে। আগে গোমাংসের সন্দেহে মারা হয়েছে, এখন খাবার কিসে মুড়ে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে হামলা মামলা হচ্ছে। পরের ধাপে হয়তো মুসলিমদের পেট চিরে দেখা হবে যে, কি খেয়েছেন তারা- এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকগণ। কারণ এখানে মূলত বিষয় দেব-দেবী কিংবা গরুকে সম্মান জানানো নয়। বরং কেবলই মুসলিম বিদ্বেষ।

তালেব হুসেনের ছেলে জানিয়েছেন, “আমার বাবা অন্যান্য দিনের মতই খাবার বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে পুরনো খবরের কাগজ নিয়ে গিয়েছিল। তারমধ্যে যে কোন দেবতার ছবি ছিল কিনা তা হয়তো খেয়াল করেননি তিনি।”
গোটা ঘটনাটি তার ও তাদের পরিবারের কাছে ধোঁয়াশার মত। কারণ দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তারা দোকান চালাচ্ছেন। মুসলিম ক্রেতাদের পাশাপাশি হিন্দু ক্রেতাও রয়েছে। কোনও দিনও সমস্যা হয়নি।

হুসেনের ছেলে আরও বলেছেন, খাবার প্যাকেট করার জন্য বাজার থেকেই তারা পুরনো কাগজ কমদামে কিনেন। হুসেনের আইনজীবী জানিয়েছে, তার মক্কেলকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তালিবের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন।

বিশ্লেষকগণ বলছেন, ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের মুসলিম নির্যাতনের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। সবসময় মুসলিমরা এখন আতঙ্কে থাকে যে কখন তারা কোন অজুহাতে উগ্র হিন্দুদের হামলার শিকার হন। প্রায় প্রতিদিনই দেশটির কোথাও না কোথাও মুসলিম নির্যাতনের এই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, দেশটিতে মুসলিরা দিনে দিনে এমনই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। তবে এর থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হিসেবে নববী মানহাজে ফিরে এসে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করার কথাই বারবার বলে আসছেন তাঁরা।


 

তথ্যসূত্র:
——-
১। হিন্দু দেবদেবীর ছবি দেওয়া কাগজ মুরে মাংস বিক্রির অভিযোগে যোগীর রাজ্যে হাজতবাস প্রৌঢ়ের
https://tinyurl.com/hasc6dvs

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন