
আল-কায়েদা আরব উপদ্বীপ শাখা ইয়েমেনে দখলদার আরব জোট বাহিনীর বিরুদ্ধে “সাহামুল-হক” নামে নতুন একটি অপারেশনের ঘোষণা করেছে। ঘোষণার ১ম দিনেই দখলদার জোট বাহিনীর বিরুদ্ধে ৫টি সফল অপারেশন পরিচালনা করছেন আল-কায়েদার প্রতিরোধ যোদ্ধারা। যাতে দুই ডজনেরও বেশি গাদ্দার সৈন্য নিহত এবং আহত হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে শত্রু বাহিনীর অসংখ্য সাঁজোয়া যান ও ড্রোন।
বিগত কয়েক বছর ধরেই আল-কায়েদা আরব উপদ্বীপ ভিত্তিক জনপ্রিয় ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী “আনসারুশ শরিয়াহ্” এধরণের অপারেশন ঘোষণা থেকে নিজেদেরকে অনেকটাই গুটিয়ে রেখেছিল। এই বছরগুলোতে দলটির প্রতিরোধ যোদ্ধারা শুধু গেরিলা যুদ্ধ আর প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের মধ্যেই নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিলো আল-কায়েদার দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধকৌশলের একটি অংশ মাত্র। আর এই কৌশলের ফলাফল সুরূপ দলটি ইয়েমেনে আজ অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত, যারা নিজ দলের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যান্য স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনীগুলোর উপরও প্রভাব বিস্তার করে চলছে, আলহামদুলিল্লাহ্।
এর স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে, দীর্ঘ সময় পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর দলটির ঘোষিত “সাহামুল-হক” অপারেশন। কেননা এই অপারেশন ঘোষণার পর শুধু আল-কায়েদা যোদ্ধারই দখলদার জোট বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন না, বরং তাদের সাথে সাথে উপজাতীয় সশস্ত্র সুন্নি মুসলিম দলগুলোও হামলা বাড়িয়েছে। তাঁরা আল-কায়েদার জন্য নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ভূমি উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, মুজাহিদদেরকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করছেন।
এর ফলে মুজাহিদগণ গত ২৪ ঘন্টায় ইয়েমেনে পরপর ৫টি সফল অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছে আবিয়ানের মুদিয়াহ এলাকায় মুজাহিদদের পরিচালিত সফল অভিযান। যেখানে মুজাহিদদের হামলায় গাদ্দার বাহিনীর ২টি গোটা চেকপোস্ট এবং ১টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়। সেই সাথে গাদ্দার বাহিনীর স্থাপন করা বেশ কিছু আইইডিও স্থানচ্যুত করেছেন মুজাহিদগণ। এই অভিযানের মুজাহিদদের হাতে ১৩ এরও বেশি গাদ্দার সৈন্য নিহত হয়।
একই ধরনের অপর একটি সামরিক অভিযান চালানো হয় শাবওয়া রাজ্যের মুসাইনা এলাকায়। মুজাহিদদের নিয়ন্ত্রিত এই এলাকায় গাদ্দার বাহিনী প্রবেশের চেষ্টা করলে মুজাহিদগণ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। আর তাতেই গাদ্দার বাহিনীর ৪ সৈন্য নিহত এবং আরও ৫ এর বেশি সৈন্য আহত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাদ্দার বাহিনীর কয়েকটি সাঁজোয়া যান। সর্বশেষ গাদ্দার আরব জোট এলাকাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
এদিন আবিয়ান রাজ্যের “খোবার আল মারাকশা” এলাকায়ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তাদের সমর্থিত সামরিক বাহিনীর সাথে মুখোমুখি তীব্র লড়াই সংঘটিত হয় মুজাহিদদের। এসময় মুজাহিদদের তীব্র হামলার ফলে পরাভূত হয় সম্মিলিত এই গাদ্দার বাহিনী। ফলশ্রুতিতে গাদ্দার বাহিনীর একটি সাঁজোয়া যান ও একটি ক্রু ধ্বংস, এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করেন মুজাহিদগণ। সেই সাথে গাদ্দার বাহিনীর কয়েক ডজন সৈন্য নিহত এবং আহত হয়, পরে তারা এই এলাকা থেকেও পালাতে বাধ্য হয়।
এদিকে আল-কায়েদা তার নতুন অপারেশনের ঘোষণাপত্রে জানিয়েছে, সম্প্রতি দখলদার আরব আমিরাত ইয়েমেনে জায়নবাদী প্রকল্প বাস্তবায়নের উঠে পড়ে লেগেছে। তারা এই লক্ষ্যে ট্রানজিশনাল কাউন্সিল, মার্কিন সমর্থিত সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের অধীনস্থদের নিয়ে দক্ষিণ ইয়েমেনে হামলা শুরু করেছে। যেই অঞ্চলগুলি বছরের পর বছর ধরে দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত-স্বাধীন রেখেছেন আহলুস সুন্নাহ্। আর তারা এই আহলুস সুন্নাহর অনুসারী জনসাধারণের বিরুদ্ধেই এবার অভিযান চালাতে শুরু করেছে। তাই এই প্রেক্ষাপটে আল-কায়েদার বীর মুজাহিদরাও ঘোষণা করছে যে, মুজাহিদরা তাদের বিরুদ্ধে মুখোমুখি অভিযান পরিচালনা করবেন। আর দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের এই (সাহামুল-হক) অপারেশন ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে, যতক্ষণ না তাদের লক্ষ্য আর কৌশল ধ্বংসস্তূপের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয় এবং তাদের এই সামরিক অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
আর আনসারুশ শরিয়াহ্’র দাওয়াহ্ ও লক্ষ্য হচ্ছে, সর্বশক্তিমান আল্লাহর বাণীকে বুলন্দ করা, তাঁর জমিনে শরীয়া শাসন প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের উম্মাহকে এগিয়ে নেওয়া এবং আমেরিকার ক্রুসেডার বাহিনী এবং তাদের সমর্থকদের প্রতিহত করা।