সোমালিয়া || শাবাব কর্তৃক মাসাগাওয়ে শহর বিজয়ে ইরিত্রিয়ায় প্রশিক্ষিত ২০৯ সৈন্য হতাহত

2
1339

সোমালিয়ায় মোগাদিশু প্রশাসনের সামরিক বাহিনী ও তাকে সমর্থনকারী বাহিনীগুলোকে টার্গেট করে সামরিক অপারেশন অব্যাহত রেখেছে হারাকাতুশ শাবাব আল মুজাহিদিন। সেই ধারাবাহিকতায়, মধ্য সোমালিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে সেটার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে প্রতিরোধ বাহিনীটি। এতে সোমালি স্পেশাল ফোর্সের উচ্চপদস্থ সেনা অফিসাররা ছাড়াও অন্তত ১৪৯ সৈন্য নিহত এবং আরও কমপক্ষে ৬০ সৈন্য আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহত সেনা অফিসারদের কয়েকজন

শাহাদাহ এজেন্সির তথ্যমতে, আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিন উক্ত অভিযানটি সোমালিয়ার জালাজদুদ রাজ্যের মাসাগাওয়ে শহরের কাছে চালিয়েছেন। অভিযানটি একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে গত ৩০ মে প্রাক-ভোরে শুরু হয়েছিল এবং কয়েক ঘন্টা ধরে চলেছিল।

এই ঘাঁটিটি ছিলো ইরিত্রিয়ায় প্রশিক্ষণ নেওয়া সোমালি স্পেশাল ফোর্সের একটি সামরিক কেন্দ্র। এরা সম্প্রতি উগান্ডা ও ইরিত্রিয়ায় প্রশিক্ষণ শেষে গত ১৪ মে এই ঘাঁটিটিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই সেনাদের নিয়ে অনেক আশাবাদী ছিলো পশ্চিমা মদদপুষ্ট সোমালি প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ। সে নিজে উপস্থিত থেকে জালাজদুদ অঞ্চলে সম্মুখ লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব এই বাহিনীর উপর অর্পণ করে। তাদের লক্ষ্য ছিলো সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আশ-শাবাবের সকল প্রকার উপস্থিতি ও শক্তিকে ধ্বংস করা। কিন্তু আশ-শাবাবের মাত্র কয়েক ঘন্টার লড়াইয়ে এই বাহিনীর সমস্ত দম্ভ চূর্ণ হয়ে যায়।

১৪ মে ঘাঁটিটিতে সেনাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে হাসান শেখ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশ-শাবাবের প্রায় শতাধিক মুজাহিদ এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। তারা প্রথমে সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী একটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। পরে শাবাবের ইনগিমাসী যোদ্ধারা ঘাঁটিতে ঢুকে পড়েন। কয়েক ঘন্টার তীব্র লড়াই শেষে মুজাহিদগণ সামরিক ঘাঁটিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন।

অন্যদিকে, শাবাবের এই অভিযানে ঘাঁটিতে আটকা পড়া সেনাদের উদ্ধার ও সহায়তা করতে তুরস্কের একটি সামরিক কনভয় শহরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মাসাগাওয়ে পৌঁছানোর আগেই ওয়ানাইল গ্রামে তুর্কী সেনাদের এই কনভয়টি শাবাবের অন্য একটি ইউনিট কর্তৃক এম্বুশের শিকার হয়। এতে তুর্কী সেনাদের কয়েকটি সাঁজোয়া যান ধ্বংস এবং বেশ কিছু সৈন্য হতাহত হয়। পরে বাধ্য হয়ে তুর্কী এই বাহিনীটি ইলধীর শহরের দিকে পালিয়ে যায়।

নিহত সেনা কর্মকর্তাদের আরও কয়েকজন

এই অভিযানের পর মোগাদিশু প্রশাসন দাবি করে যে, তারা শাবাবের আক্রমণটি প্রতিহত করেছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় তাদের মাত্র ৩ সৈন্য আহত হয়েছে এবং আশ-শাবাবের ৩০ জন নিহত হয়েছে বলেও দাবি করে মোগাদিশু প্রশাসন।

অপরদিকে আশ-শাবাব একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা এই অভিযানে শহরটি বিজয় করা সহ ইরিত্রিয়ায় প্রশিক্ষিত সোমালি স্পেশাল ফোর্সের অন্তত ১৪৯ সেনাকে হত্যা করেছেন এবং অনেক অস্ত্র ও সামরিক যান জব্দ করেছেন। পাশাপাশি, নিজেদের দাবির স্বপক্ষে আশ-শাবাব কয়েক ডজন ফুটেজ শেয়ার করেছে।

স্পেশাল ফোর্সের সেনা সদস্যদের কয়েকটি মৃতদেহ

সামরিক ঘাঁটি থেকে শাবাব কর্তৃক শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, মোগাদিশু প্রশাসনের নিহত হওয়া ডজনকে ডজন সৈন্যের মৃতদেহ ঘটনাস্থলে পড়ে আছে। কয়েকজনকে বন্দী করেও নিয়ে যাচ্ছে আশ-শাবাব যোদ্ধারা- এমন ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভারী মেশিনগান দ্বারা সজ্জিত ৫টি সাঁজোয়া যান এবং খাদ্য ও অস্ত্র বুঝাই একটি ট্রাক জব্দ করার ছবি প্রকাশ করেছে আশ-শাবাব।

2 মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধওড়িশার ট্রেন দুর্ঘটনা: সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে হিন্দুত্ববাদীরা
পরবর্তী নিবন্ধফটো রিপোর্ট || মাসাগাওয়ে শহর বিজয়ে শাবাব কর্তৃক অস্ত্রের বিশাল বড় মজুদ উদ্ধার