এবার চবিতে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

- সাইফুল ইসলাম

0
171
সুবিধামত ফন্ট ছোট বড় করুনঃ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের একজন অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেছেন একই বিভাগের একজন ছাত্রী। গত ৩১শে জানুয়ারি বুধবার দুপুরে উপাচার্য শিরীণ আখতারের কাছে ওই শিক্ষার্থী ওই অধ্যাপক সম্পর্কে লিখিতভাবে যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত অধ্যাপকের নাম মাহবুবুল মতিন।

এই ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপাচার্যের কাছে দেওয়া অভিযোগে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, তিনি অভিযুক্ত অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তরের থিসিস করছেন। থিসিস শুরু হওয়ার পর থেকেই অধ্যাপক তাকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করছে। পরীক্ষাগারে (ল্যাব) ও নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে একাধিকবার ওই অধ্যাপক তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া, জড়িয়ে ধরাসহ নানাভাবে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন করে আসছে।
অভিযোগে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, ৬ জানুয়ারি গবেষণাগারে তাকে একা পেয়ে ওই শিক্ষক যৌন নিপীড়ন করে। এরপর ১৩ জানুয়ারি নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

হেনস্তার শিকার ছাত্রী আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনা প্রকাশ না করতে ওই শিক্ষক তাকে ও তার সহপাঠীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছে। এ অবস্থায় ওই ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। তার পক্ষে আর এই গবেষণাগারে থিসিসের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেছেন।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক মাহবুবুল মতিন বলেন, এসব ঘটনা বানোয়াট। ওই ছাত্রী পারিবারিক কারণে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এ ছাড়া ওই গবেষণাগারে যখন কেউ থাকেন না, তখন ওই ছাত্রী তার ছেলেবন্ধু নিয়ে সময় কাটান। এসব বিষয় নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেছিলেন।

ওই অধ্যাপক আরও বলেন, তার বয়স এখন ৫৬ বছর। প্রায় ৩০ বছর তিনি শিক্ষকতায় আছেন। যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, এটি ভয়ংকর। তার থিসিসের শিক্ষার্থীরা কাজে কোনো ভুল করলে তিনি বকাবকি করেন, সেটিও শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্য করেন। এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

তবে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর এক সহপাঠী প্রথম আলোকে বলেন, ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও হেনস্তার আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। এত দিন পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার ভয়ে কোনো ছাত্রী কথা বলেননি। কিন্তু এখন সবাই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। একের পর এক প্রমাণ সামনে আসছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত সাপেক্ষে ওই অধ্যাপকের বিচার না হবে, ততক্ষণ তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
সেই শিক্ষকের শাস্তিসহ দুই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো অভিযুক্ত শিক্ষক কে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় তার বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করতে হবে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তাদের হাতে ব্যানারে লিখা ছিলো ‘ধর্ষণ চেষ্টাকারী শিক্ষক মাহবুবুল মতিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’। পাশাপাশি Raise your voice against sexual harassment; যৌন নিপীড়কের স্থায়ী বহিষ্কার চাই; অস্থায়ী শাস্তি আর নয়, স্থায়ী সমাধান চাই; বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হেনস্তাকারী কেন, প্রশাসন জবাব চাই; আমার বোন লাঞ্ছিত কেন, প্রশাসন জবাব চাই; একটা দুইটা ধর্ষক ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর; ইত্যাদি লেখা সংশ্লিষ্ট পোস্টার দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত তাকে সকল প্রকার একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


তথ্যসূত্র:
———–
১. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ছাত্রীর
http://tinyurl.com/bv596334
২. চবিতে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত
http://tinyurl.com/49s7um4p

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধনতুন বিবৃতিতে জায়োনিস্ট বাহিনীর ৪৩টি যান ধ্বংসের ঘোষণা আল-কাসসাম মুখপাত্রের
পরবর্তী নিবন্ধভারতে কথিত ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের’ জেরে গ্রেপ্তার বক্তা মুফতি সালমান আজহারি