নারী ও শিশুর নিরাপত্তায় ইসলামী রাষ্ট্রের সফলতা বনাম হীনম্মন্য সেক্যুলারদের নোংরা প্রোপাগাণ্ডা

0
16

আল ফিরদাউস এর সম্পাদক মুহতারাম ইবরাহীম হাসান হাফিযাহুল্লাহ’র কলাম

‎গণতান্ত্রিক আফগানিস্তানের বহুল চর্চিত অন্ধকারের একটি নিকৃষ্টতম অধ্যায় ছিল ‘বাচ্চাবাজি’ নামক জঘন্য প্রথার অবাধ বিস্তৃতি। মানবাধিকারের বুলি আওড়ানো সেই তথাকথিত মুক্ত সমাজে এই অমানবিক প্রথাটি ছিল এক প্রকাশ্য ব্যাধি। কিন্তু বর্তমান শরিয়াহশাসিত ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান অত্যন্ত কঠোরহস্তে এই পাশবিক প্রথার সম্পূর্ণরূপে মূলোৎপাটন করেছে। কেবল নিষিদ্ধ করেই তাঁরা ক্ষান্ত হয়নি, বরং ইসলামী শরিয়াহর অমোঘ বিধান অনুযায়ী এর শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ববি হাজ্জাজের মতো চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষী প্রোপাগান্ডিস্টরা প্রকাশ্যে যতই বিষোদ্গার করুক না কেন, তারাও মনে মনে এই ধ্রুব সত্যটি খুব ভালো করেই অনুধাবন করে যে—ইমারাতে ইসলামিয়ার বিচারব্যবস্থা কতটা স্বাধীন, সুদৃঢ় এবং ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন।

‎অন্যদিকে, যদি আমরা আধুনিক বিশ্বের তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখতে পাব সেখানে শিশুদের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা বা মৌলিক অধিকারের কোনো বাস্তব নিশ্চয়তা নেই। খুন, ধর্ষণ এবং শিশু নির্যাতনের মতো বীভৎস ও লোমহর্ষক অপরাধগুলো সেখানে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এসব গুরুতর অপরাধের সুষ্ঠু বিচার পাওয়া খুবই দুষ্কর। বছরের পর বছর, এমনকি যুগের পর যুগ ধরে চলতে থাকে বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার প্রহসন। গণতান্ত্রিক এই ব্যবস্থায় আইন যেন এক অদৃশ্য, ক্ষীণ ও মেরুদণ্ডহীন কাগুজে সত্তা মাত্র। অপরাধীর বিরুদ্ধে অপরাধের চাক্ষুষ ও অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, আইনি ফাঁক-ফোকরের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা অনায়াসেই পার পেয়ে যায়; আইন কোনো কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। ঠিক এর বিপরীতে, অপরাধের মূলোৎপাটন এবং অপরাধীদের যথাযথ প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিতে ইসলামী শরিয়াহ এক শতভাগ সফল, কার্যকর ও ত্রুটিমুক্ত বিচার ব্যবস্থা। শরিয়াহর এই দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কারণেই সমাজে প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয়।

‎এতদসত্ত্বেও আমাদের সমাজের তথাকথিত সুশীল ও সেক্যুলার শ্রেণি এক নিদারুণ এবং চরম আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগে চলেছে। শেকড়বিচ্ছিন্ন এই শ্রেণিটি নিজেদের অন্তর্নিহিত হীনম্মন্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব ঢাকতে প্রতিনিয়ত প্রভুভক্তির নতুন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তারা কখনো পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ ও তাঁবেদারি করে এক বিকৃত আত্মতৃপ্তি লাভ করে, আবার কখনো বা চরম নির্লজ্জতার সাথে প্রতিবেশী ভারতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের পদলেহন করতেও প্রবল গর্ববোধ করে। নিজস্ব কোনো স্বকীয়তা না থাকায়, অন্যের ধার করা আদর্শেই তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক হাস্যকর ও বৃথা চেষ্টা করে চলেছে।

‎মূলত ববি হাজ্জাজ এবং তার মতো সমমনা সুবিধাভোগী গোষ্ঠী ইমারাতে ইসলামিয়া তথা ইসলামী শরিয়াহর এই শাশ্বত ও প্রায়োগিক কার্যকারিতা নিয়ে প্রতিনিয়ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নানা ধরনের ভ্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করে থাকে। তাদের এই নিরবচ্ছিন্ন অপতৎপরতার একমাত্র হীন উদ্দেশ্য হলো, সর্বসাধারণের সামনে ইসলামী শরিয়াহকে অকার্যকর বা ভুল প্রমাণ করা। অথচ এটি এক চরম বিস্ময়কর বৈপরীত্য যে, যে মতবাদ প্রতিনিয়ত সমাজকে অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সমাজে অপরাধীদের অভয়ারণ্য তৈরি করছে—নিজেদের লালন করা সেই বস্তাপচা, ব্যর্থ ও সম্পূর্ণ অন্তঃসারশূন্য মতবাদকেই তারা মানবতার মুক্তির মহাসোপান বলে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে! বাস্তবতা হলো, শরিয়াহর সুমহান ও সুনির্মল আলোর সামনে তাদের এই ঠুনকো ও কৃত্রিম আদর্শের অন্তঃসারশূন্যতা আজ দিবালোকের মতোই স্পষ্ট।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধভিডিও || ভারতে উত্তরপ্রদেশে একটি মসজিদ ও আজগাইব শহীদ মাজার বুলডোজারে ধ্বংস করেছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন