ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রধান বিচারপতি ফাদ্বিলাতুশ শায়খ আব্দুল হাকিম হাক্কানি হাফিযাহুল্লাহ’র পাণ্ডিত্যপূর্ণ কার্যক্রম ও শিক্ষাদান

0
11

 আল ফিরদাউস এর সম্পাদক মুহতারাম ইবরাহীম হাসান হাফিযাহুল্লাহ’র ওয়াল থেকে…

পাণ্ডিত্যপূর্ণ কার্যক্রম ও শিক্ষাদানঃ

শায়খ আব্দুল হাকিম হাক্কানি হাফিযাহুল্লাহ বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষাদানের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সূচনা করেন। নিজের এই শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শায়খ আবদুল হাকিম লেখেন:
“আমি বেলুচিস্তানের বিভিন্ন মাদ্রাসায় প্রচলিত কিতাবাদী পড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষকতা শুরু করি। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—মাদ্রাসাতু তাদরীসিল কুরআন কারবালা, মাযহারুল উলুম শালদেরা এবং আফগানিস্তানের জিহাদি আন্দোলনের নূরুল মাদারিস।

আফগানিস্তান থেকে রুশ বাহিনীর প্রত্যাহার এবং কমিউনিস্ট (খালকি) সরকারের পতনের পর আমি নিজ দেশে ফিরে আসি। এরপর জন্মভূমি তালোকান গ্রামে শিক্ষকতা শুরু করি। সেখানে আমি দুই বছর পাঠদান করেছি; প্রথম বছর পড়াই ‘মাউকুফ আলাইহি’ (ফিকহ ও উসুলের একটি নির্দিষ্ট স্তর) এবং দ্বিতীয় বছর ‘দাওরায়ে হাদিস’ (হাদিসের পূর্ণাঙ্গ কোর্স) পড়ানোর দায়িত্ব পালন করি।

এরপর আমি হেলমান্দ প্রদেশের অন্যতম গ্রাম সঙ্গিনে সফর করি এবং সেখানেও দাওরায়ে হাদিসের দারস দিই। পরবর্তীতে, আমীরুল মু’মিনীন মোল্লা মুহাম্মাদ উমর মুজাহিদের (রহিমাহুল্লাহ) বিশেষ অনুরোধ ও পরামর্শে আমি কান্দাহারে যাই। সেখানে ইসলামি ইমারাতের ‘কেন্দ্রীয় জিহাদ মাদ্রাসা’-তে দীর্ঘ তিন বছর শিক্ষকতা করি।”

২০০১ খ্রিস্টাব্দে যখন আমেরিকা ও তার মিত্রবাহিনী আফগানিস্তানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, তখন তালেবান সরকারের পতন ঘটে। চারদিকে শুরু হয় জুলুম ও নিপীড়ন, আর সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে দেশত্যাগ করতে থাকে। এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে শায়খ নিজেও হিজরত করে পাকিস্তানের কোয়েটা শহরে এসে বসতি স্থাপন করেন। সেখানে তিনি কোয়েটার মুহাম্মদ খায়ের রোডের ‘মাদ্রাসা হাক্কানিয়া’ এবং হাজি গায়েবি রোডের ‘আল-জামিয়াহ আল-ইসলামিয়াহ’-তে পুনরায় শিক্ষকতা শুরু করেন।

পরবর্তীতে, ১৪২৩ হিজরিতে (২০০৩ খ্রিস্টাব্দ) শায়খ কোয়েটার ইসহাকাবাদে ‘দারুল উলুম শরইয়্যাহ’ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ধরে আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্র হাদিসসমূহের দারস প্রদান করেন। কিন্তু এরপর আমেরিকা ও তাদের দোসরদের সীমাহীন জুলুম-নির্যাতনের কারণে তিনি শিক্ষকতা ছাড়তে বাধ্য হন। পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল যে, জামাতের সাথে নামাজ আদায়ের জন্য তাঁর পক্ষে ঘর থেকে বের হওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর মূল কারণ ছিল, তিনি তখন ‘ইসলামিক এমিরেট অফ আফগানিস্তান’-এর সুপ্রিম কোর্ট বিভাগের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মূলত এই গৃহবন্দী অবস্থার কারণেই তিনি গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের কাজে মনোনিবেশ করেন। অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

১. যাদুল মুহতাজ ফি তাহকিকিল মিনহাজ: এটি শায়খ মুফতি মুহাম্মদ ফরিদ যারোবি রচিত ‘মিনহাজুস সুনান শরহু জামিউস সুনান’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের একটি পর্যালোচনামূলক সংস্করণ ও গবেষণাকর্ম (তাহকিক)। এই গ্রন্থে শায়খ মূল লেখকের বক্তব্য ব্যাখ্যার প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছেন এবং এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও উপকারী পাণ্ডিত্যপূর্ণ সূক্ষ্ম বিষয়াদি সংযোজন করেছেন। পাঁচ খণ্ডে সমাপ্ত এই গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন ইসলামি ইমারাতের আমির, আমীরুল মু’মিনীন, শাইখুল হাদিস ওয়াত-তাফসির আল্লামা মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হাফিযাহুল্লাহ এবং শহীদ শায়খ মাওলানা সামিউল হক হাক্কানি রহিমাহুল্লাহ।

২. আয-যাদুশ শরয়ী ফি তাওদিহি জামিত তিরমিজি: এই গ্রন্থটি ‘মিনহাজুস সুনান শরহু জামিউস সুনান’-এর দ্বিতীয় খণ্ডের একটি গবেষণামূলক সংস্করণ। এটিও মোট পাঁচ খণ্ডে সমাপ্ত।

৩. যাদুল মাহাফিল ফি শরহিশ শামায়িল: এটি ইমাম তিরমিজির (রহিমাহুল্লাহ) বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আশ-শামায়িলুন নাবাবিয়্যাহ’-এর একটি অনবদ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এই গ্রন্থে ব্যাখ্যাকার শামায়িলের ওপর পূর্বে রচিত বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যা ও টীকা-টিপ্পনীর ওপর নির্ভর করেছেন এবং সেগুলো থেকে সারনির্যাস গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি তিনি সিরাতের (নবীজির জীবনী) বিভিন্ন প্রামাণ্য গ্রন্থ থেকেও প্রভূত সাহায্য নিয়েছেন।

৪. রওদাতুল কাদা: ইসলামী বিচারব্যবস্থার ফিকহি নিয়মকানুন ও মূলনীতি নিয়ে রচিত এই গ্রন্থে মোট ১,৩৭৯টি বিচারিক মূলনীতি সন্নিবেশিত হয়েছে।
তাতিম্মাতুন নিজাম ফি তারিখিল কাদা ফিল ইসলাম: এই গ্রন্থটিও উপরিউক্ত গ্রন্থেরই অনুরূপ।

৫. তাহকিকু মুঈনিল কুদাত ওয়াল-মুফতিন: এটি মূলত মহান মুহাদ্দিস ও প্রখ্যাত ফকিহ শায়খ শামসুল হক আফগানির (মৃত্যু: ১৪০৩ হিজরি) রচিত ‘মুঈনুল কুদাত ওয়াল-মুফতিন’ গ্রন্থের ওপর একটি অত্যন্ত সুদৃঢ় ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষণাকর্ম (তাহকিক)। শায়খ আফগানি ছিলেন ইমাম আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি এবং ইমাম আশরাফ আলী থানভীর (রহিমাহুল্লাহ) সুযোগ্য ছাত্র।

৬. মানাকিবুল আয়িম্মাতিস সিত্তাহ (রহিমাহুমুল্লাহু তাআলা): এই গ্রন্থে লেখক মহান ছয়জন ইমামের গুণাবলি ও মর্যাদা (মানাকিব) সংকলন করেছেন। তাঁরা হলেন—ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম আহমাদ, ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান রহিমাহুমুল্লাহ।

৭. রিসালাহ ফি আদাবিল মুয়াল্লিম ওয়াল-মুতাআল্লিম: এই বক্ষ্যমাণ কিতাবটি ‘আদব’ (শিষ্টাচার বা সদাচরণ)-এর অর্থ এবং এর ফজিলত সম্পর্কিত একটি চমৎকার ভূমিকা দিয়ে শুরু হয়েছে। এরপর এতে পর্যায়ক্রমে একজন শিক্ষকের নিজস্ব শিষ্টাচার, পাঠদানের আদব, একজন শিক্ষার্থীর শিষ্টাচার এবং শিক্ষার্থীর জ্ঞানান্বেষণ সম্পর্কিত আদবসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পরিশেষে লেখক কিছু বিরল ও মূল্যবান শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণনার মাধ্যমে গ্রন্থটির ইতি টেনেছেন।

৮. রিসালাহ ফি আদাবিল আকলি ওয়াশ-শুরব: এই গ্রন্থে লেখক খাবার গ্রহণের আদব, খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি, আহার শেষ করার নিয়ম, পান করার আদব এবং অতিথি আপ্যায়ন ও মেহমান হওয়ার সঠিক পন্থা নিয়ে বিষদ আলোচনা করেছেন।

৯. যাদুদ দুআ: এই কিতাবটি মূলত দুআ’র আদব প্রসঙ্গে রচিত। এটি দুআ’র আভিধানিক অর্থ ও এর প্রকৃত হাকিকতের আলোচনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এরপর লেখক সর্বোত্তম দুআসমূহ, এগুলোর বিধিবিধান, আদব, উপযুক্ত সময়, শর্তাবলি এবং এমন কিছু নির্দিষ্ট স্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন যেখানে দুআ কবুলের সম্ভাবনা অন্যান্য স্থানের চেয়ে অনেক বেশি। এরপর তিনি পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থাবলি থেকে বাছাইকৃত কিছু দুআ উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ (আসমাউল হুসনা) নিয়ে আলোচনা এনেছেন এবং সেগুলোর অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। পরিশেষে জিহাদ সম্পর্কিত দুআগুলোর মাধ্যমে পুস্তিকাটি সমাপ্ত হয়েছে।

১০. রিসালাহ ফি আদাবিস সাফার: এই পুস্তিকায় সফরের বা ভ্রমণের নানাবিধ আদব ও শিষ্টাচার ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

১১. রিসালাহ ফি আদাবিল মুফতি ওয়াল-মুসতাফতি: ‘ফতোয়া’-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা, ‘কাদা’ (বিচারকাজ)-এর পরিচয় এবং কাদা ও ফতোয়ার মধ্যকার মূল পার্থক্যের আলোচনার মাধ্যমে পুস্তিকাটি শুরু হয়েছে। এরপর এতে ফতোয়া প্রদানের বিধিবিধান, একজন মুফতির শিষ্টাচার, ফতোয়া লেখার আদব, ফতোয়া প্রকাশের নিয়মাবলি এবং সর্বশেষে মুসতাফতির (যিনি ফতোয়া বা মাসআলা জানতে চান) আদব ও গুণাবলি নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করা হয়েছে।

১২. রিসালাহ ফি আদাবি কাদায়িল হাজাহ: এই পুস্তিকায় প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের (শৌচাগার ব্যবহারের) মৌখিক ও ব্যবহারিক শিষ্টাচারসমূহ আলোচনা করা হয়েছে।

১৩. আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা ফিল ইসলাম: এই পুস্তিকাটি ‘ওয়ালা’ (মৈত্রী/আনুগত্য) এবং ‘বারা’ (সম্পর্কচ্ছেদ/বৈরিতা)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মাধ্যমে সূচিত হয়েছে। এরপর এতে কাফিরদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং তাদের থেকে দূরে থাকার বাধ্যবাধকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি কাফির ও ফাসিদ (দুর্নীতিগ্রস্ত) লোকদের সাথে বন্ধুত্ব করার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উঠে এসেছে। লেখক এখানে কয়েক ধরনের মৈত্রী বা বন্ধুত্বের (মুওয়ালাত) কথা উল্লেখ করেছেন এবং তারপর “দয়াময়ের বন্ধু” ও “শয়তানের বন্ধু”-দের মধ্যকার শত্রুতা ও বৈরিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি বিদআতি (ধর্মে নব-আবিষ্কারকারী) এবং ভ্রষ্ট লোকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের বিষয়ে কথা বলেছেন। সবশেষে, তিনি ইসলামে ‘ওয়ালা’ এবং ‘বারা’-এর কিছু নিদর্শন ব্যাখ্যা করেছেন, যেখানে খুবাইব ইবনে আদি, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের শিক্ষণীয় ঘটনাবলি তুলে ধরা হয়েছে। একজন মুসলিম কীভাবে একজন কাফির বা পাপীর সাথে আচরণ ও লেনদেন করবে, তার শিষ্টাচার বর্ণনার মধ্য দিয়ে পুস্তিকাটির সমাপ্তি ঘটেছে।

১৪. রিসালাহ ফিল হাবসি ওয়া আহকামিহ: লেখক এই পুস্তিকাটি ‘হাবস’ (কারাবাস বা কারাগার)-এর সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে শুরু করেছেন। এরপর তিনি কারাগারের বৈধতা, এর পেছনের হিকমত, কারাবাসের কারণসমূহ, এর মেয়াদকাল, কারারক্ষীর গুণাবলি ও তার পারিশ্রমিক, বন্দীর পলায়ন, রাষ্ট্র কর্তৃক কারাগারগুলোর তদারকি ও সংস্কার এবং ইসলামে বন্দীদের অধিকার নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা করেছেন।

১৫. রিসালাহ ফি মাসায়িলি হালকির রা’স: এটি মাথা মুণ্ডন করার বিভিন্ন মাসআলা ও বিধিবিধান সম্পর্কিত কিতাব।

১৬. রিসালাহ ফি মাসআলাতিল মুসাফাহাহ: এই গ্রন্থে মুসাফাহা বা করমর্দনের শরয়ি বৈধতা, এর সঠিক পদ্ধতি এবং এ বিষয়ে আলেমদের বিভিন্ন মতামত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

১৭. রিসালাহ ফি মাসআলাতিত তাকলিদ: এই গ্রন্থে ‘তাকলিদ’ (অনুসরণ)-এর সংজ্ঞা, এর ধরন ও বৈধতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং তাকলিদ যে কেবল চারজন প্রধান ইমামের (রহিমাহুমুল্লাহ) মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তা সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

১৮. রিসালাহ ফি মাসআলাতিত তারাবিহ: তারাবিহ সালাতের বৈধতার ইতিহাস, জামাতের সাথে এটি আদায় করা, এর রাকাত সংখ্যা এবং এ বিষয়ে চার মাজহাবের সুনির্দিষ্ট মতামতের বর্ণনার মাধ্যমে লেখক এই কিতাটি শুরু করেছেন। তারাবিহের সালাতে পবিত্র কুরআন খতম করার বিষয় পর্যালোচনার মাধ্যমে কিতাবটি শেষ হয়েছে।

১৯. যাদুদ দাওয়াহ: এটি ‘দাওয়াহ’ (ইসলামের পথে আহ্বান) বিষয়ক একটি কিতাব। এতে দাওয়াতের ফজিলত ও বিধান, মুতাতাউওয়ি (স্বেচ্ছাসেবক) ও মুহতাসিব (যিনি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করেন)-এর মধ্যকার পার্থক্য, দাওয়াত প্রদানের সঠিক পদ্ধতি, এর উপায় ও পন্থা, দাওয়াতের মূল উৎস ও মাধ্যম এবং দাঈ বা দাওয়াতকর্মীদের নৈতিকতা ও গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

২০. আত-তারিখুল ইসলামি: এটি ইসলামি ইতিহাস নিয়ে রচিত একটি চমৎকার গ্রন্থ। ইতিহাসের সংজ্ঞা, এর বিভিন্ন কারণ এবং বছরের প্রথম মাসের নাম কেন “আল্লাহর মাস, মুহাররম” রাখা হয়েছে, তার ব্যাখ্যার মাধ্যমে লেখক কিতাবটির সূচনা করেছেন।

২১. খতমে সহিহ আল-বুখারি আশ-শরিফ: এই কিতাবটি কয়েকটি অংশে বিভক্ত:

প্রথমত: সহিহ বুখারির অধ্যায়সমূহ (আবুওয়াব) এবং এর শিরোনাম (তরজমাতুল বাব) সম্পর্কে আলোচনা।
দ্বিতীয়ত: এতে উল্লেখিত হাদিসসমূহের পর্যালোচনা।
দাওরায়ে হাদিসের অধ্যয়নরত ছাত্র এবং সদ্য স্নাতকদের জন্য কিছু মূল্যবান নসিহত (অসিয়ত) প্রদানের মাধ্যমে পুস্তিকাটি শেষ হয়েছে।

২২. যাদুল মাআদ ফি মাসায়িলিল জিহাদ: এটি পশতু ভাষায় রচিত গ্রন্থ।

২৩. তরিকুল ফাদলি ফি মাসায়িলিল গানিমাতি ওয়াল-ফায়ি ওয়ান-নাফলি

২৪. তরিকুল জান্নাহ

২৫. যাদুদ্দারাইনি ফি তাফসিরিল জালালাইন

২৬. আত-তাহকিকুল আজিব ফি হাল্লি শরহিল জামি

আমি মহান আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালার কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খের বরকত ও কল্যাণকে বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে দেন। আর সেই দিন পর্যন্ত যেন একে তাঁর পরিবার, ছাত্র এবং অনুরাগীদের জন্য ইলম ও হিকমাহ’র এক গর্বের উৎসে পরিণত করেন—যেদিন সম্পদ বা সন্তানাদি কারো কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে-ই মুক্তি পাবে যে রব্বে কারীমের নিকট একটি প্রশান্ত ও বিশুদ্ধ ক্বলব নিয়ে উপস্থিত হবে। মহান আল্লাহই একমাত্র তৌফিকদাতা।

আরো পড়ুন: ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রধান বিচারপতি ফাদ্বিলাতুশ শায়খ আব্দুল হাকিম হাক্কানি হাফিযাহুল্লাহ’র সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলো
https://alfirdaws.org/2026/06/16/98238/

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেই গাজায় চলছে ইসরায়েলি হামলা: নারী-শিশু সহ শহীদ আরও ৪
পরবর্তী নিবন্ধআফগানিস্তানে ১৪ বছর ধরে চলা বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করলো ইমারাতে ইসলামিয়া