মাত্র পাঁচ বছরে বদলে গেছে আফগানিস্তান, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে ইমারাতে ইসলামিয়ার অগ্রযাত্রা

0
9

আফগানিস্তানে ইমারাতে ইসলামিয়ার ক্ষমতায় ফেরার প্রায় পাঁচ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। দীর্ঘ সংঘাতের পর এই সময়ে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে শরিয়াহভিত্তিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কূটনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, অর্থনৈতিক সংকট ও বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর প্রত্যাবর্তনের মতো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও এখন নতুন সম্ভাবনা ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে ইমারাতে ইসলামিয়া।

ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ টোলো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গত পাঁচ বছরের অগ্রগতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, দেশজুড়ে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ইমারাতে ইসলামিয়ার অন্যতম বড় অর্জন। একই সঙ্গে দেশের আইন ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো শরিয়াহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশজুড়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শরিয়াহ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছিল আফগান জনগণের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা। ইমারাতে ইসলামিয়ার গত পাঁচ বছরের শাসনে সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপ পেয়েছে।

গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতেও নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। কাবুল বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র জানান, বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে এসব সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে আফগানিস্তানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আফগান জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অর্থনীতিকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতির আওতায় প্রতিবেশী, আঞ্চলিক ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রক্রিয়াও ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।

পাঁচ বছরের এই যাত্রায় ইমারাতে ইসলামিয়া প্রমাণ করেছে যে, তারা একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ ও শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সক্ষম। নিরাপত্তা ও শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আফগান জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দা এবং সর্বত্র যুদ্ধ-সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার মত বৈশ্বিক এই অস্থিতিশীল সময়ে ইমারতে ইসলামিয়া শরিয়াহ আইন দ্বারা শাসন করে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত ও বহু জাতি বহু ভাষায় বিভক্ত একটি জনপদকে ক্রমান্বয়ে আখিরাতের সফলতার সাথে সাথে দুনিয়াবি সফলতারও শিখরে নিয়ে যাচ্ছে যা প্রমাণ করে ইসলামী শরিয়াহ এবং এর ধারকবাহক আল্লাহ্‌ভীরু মুসলিমগণই বিশ্বকে নেতৃত্বদানের মাধ্যমে প্রকৃত শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পথ দেখাতে সক্ষম।


তথ্যসূত্র
1. Islamic Emirate Marks Five Years: Achievements and Challenges
– https://tinyurl.com/2k6f4py2

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধযশোরে ঘর থেকে মা-ছেলের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধবাগেরহাটে ঘর ভাড়া পরিশোধে ৫০০ টাকায় মাথার চুল বিক্রি করলেন অসহায় নারী, ২ সন্তান নিয়ে থাকেন রেললাইনে