
বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এর আওতায় এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে সে এ ঘোষণা জানায়।
অমিত শাহ দাবি করেছে, নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ থেকে অনেক হিন্দু, শিখ ও জৈন ধর্মাবলম্বী ভারতে এসেছে। এসকল শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে।
এসব শরণার্থীকে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সে। সে আরও জানায়, সিএএ’র আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারতের সংসদে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হয় এবং ২০২৪ সালে এর বিধিমালা কার্যকর করা হয়। আইনটির আওতায় তাদের ভাষ্যমতে, ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানদের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করা থাকতে হবে।
অপরদিকে, একই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে হিন্দুত্ববাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘অবৈধ অভিবাসী বা বাংলাদেশি’ আখ্যা মূলত বাংলাভাষী মুসলিম ভারতীয় নাগরিকদের দেশছাড়া করার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে হিন্দুত্ববাদী সরকার।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/5adt25aj


