
২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ২১ আগস্ট, শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ হাজার ৮৬০ জন নারী এবং ১০ হাজার ৬৩২ জন পুরুষ।
তবে ঘটনার সংখ্যা কমলেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ অর্থবছরে যৌন নিপীড়নের ৭ হাজার ৯৯৮টি অভিযোগ জমা পড়ে। প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আনুমানিক আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছে। ২০২৩ সালে এই হার ছিল চারজনের একজন।
পেন্টাগন বলছে, যৌন নিপীড়নের ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সদস্যদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও অন্যান্য পুনরুদ্ধারমূলক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা যায়। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি যৌন হয়রানির ঘটনাও কমেছে। ২০২৫ সালে আনুমানিক ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বা ৪৪ হাজার ৬৫৬ জন সেনাসদস্য যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে।
বাহিনীভেদেও যৌন নিপীড়নের হারে পার্থক্য রয়েছে। নারী সদস্যদের মধ্যে মেরিন কোরে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন সংস্পর্শের হার সবচেয়ে বেশি ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রে নৌবাহিনীতে এই হার ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে বিমানবাহিনীতে নারী সদস্যদের মধ্যে এই হার ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং পুরুষ সদস্যদের মধ্যে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ ছিল, যা বাহিনীগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ ট্রায়াল কাউন্সেলের বিষয়ে ৬৫ শতাংশ পুরুষ সদস্য ইতিবাচক আস্থা প্রকাশ করলেও নারীদের মধ্যে এ হার ছিল ৪৪ শতাংশ।
যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশ না করার ক্ষেত্রে প্রতিশোধের আশঙ্কাও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন সংস্পর্শের অভিজ্ঞতা থাকা নারী সদস্যদের ১৭ শতাংশ আইনবিরোধী প্রতিশোধের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে। পুরুষ ও নারী উভয় সদস্যের ক্ষেত্রেই সহকর্মী ও সহযোদ্ধাদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা অভিযোগ না করার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৩ সালে গুরুতর অপরাধ, যার মধ্যে যৌন নিপীড়ন, পারিবারিক সহিংসতা, হত্যা ও অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড রয়েছে, সেগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বাধীন আইনি কাঠামো চালু করা হয়। এর আওতায় বিশেষ ট্রায়াল কাউন্সেলের কার্যালয় এসব মামলার তদন্ত ও বিচারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সরাসরি পরিচালনা করে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মী ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্টনি টাটা বলে, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর আদর্শ এবং সামগ্রিক প্রস্তুতির ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি এসব মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করে, আস্থা নষ্ট করে এবং সামরিক অভিযানের সাফল্যকে হুমকির মুখে ফেলে।
সর্বশেষ প্রতিবেদনে সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের প্রবণতা কমার তথ্য উঠে এলেও বিপুলসংখ্যক সদস্য এখনো এ ধরনের ঘটনার শিকার হওয়ায় বিষয়টি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।
তথ্যসূত্র
1. Incidents of sexual assault, harassment continue to drop in US military, report finds
– https://tinyurl.com/5baywppz


