
একযোগে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার রাতে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর আগে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ঘটনা ঘটে।
জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ ও এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে একটি ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। এতে কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত এবং কারিগরি অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে যায় বলেও জানানো হয়।
এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’-এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। ওই হামলায় অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং ক্যাম্পটির কয়েকটি স্থাপনা ও শত্রুপক্ষের ‘অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে, উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, হামলায় একটি মেরামতকেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জাম রাখার গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। ঘাঁটির একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।
এছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন ছোড়ার কথা জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। দেশটির বার্তা সংস্থা তাসনিম সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানি সেনাবাহিনীর ভাষ্য, হামলাটি তাদের ‘অপারেশন থান্ডার’-এর ২৯তম ধাপের অংশ। তাদের দাবি, শেখ ইসা বিমানঘাঁটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রোনের যন্ত্রপাতি এবং নজরদারি উড়োজাহাজ পরিচালনায় ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়।
তথ্যসূত্র
1. Attacks on Jordan, Kuwait, Bahrain, Iraq as Iran launches retaliatory strikes against US bases
– https://tinyurl.com/yrx8pc3s


