আমেরিকায় হাসিদিক ইহুদি নারীদের রক্ষণশীল জীবনযাপন; পশ্চিমা কপটতা, দেশীয় নারীবাদী ও কথিত সুশীল সমাজের নগ্ন দ্বিচারিতা

0
39

নিউইয়র্ক শহরের প্রাণকেন্দ্রে বসবাসকারী হাসিদিক ইহুদি সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা চরম রক্ষণশীল ও কঠোর অনুশাসনে মোড়া। বিয়ের পর এ সম্প্রদায়ের নারীদের মাথার চুল সম্পূর্ণ কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকে ঘরের বাইরে তো বটেই, এমনকি নিজগৃহে স্বামীর সামনেও তাদের চুল ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক। সাধারণত একেকজন নারী দশ থেকে পনেরোজন সন্তানের জন্ম দেয়। এই ধারাবাহিকতায় যদি কোনো নারী সামান্য বিরতি নিতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই একজন র‍্যাবাইয়ের (ইহুদি ধর্মযাজক) শরণাপন্ন হয়ে পূর্বানুমতি ও পরামর্শ নিতে হয়।

নারীরা ঘরের বাইরে সঠিক ও শালীন পোশাক পরিধান করছে কি না, তা কড়া নজরে রাখার জন্য তাদের ‘শালীনতা টহল দল’ নামে একটি সুসংগঠিত স্বেচ্ছাসেবী নজরদারি বাহিনী রয়েছে। হাসিদিক ইহুদিদের এই ভিন্নধর্মী ও কঠোর জীবনাচরণের চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন বিখ্যাত ট্রাভেল ব্লগার রুহি চেনেট। তার বর্ণনায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, আমেরিকার মতো তথাকথিত আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরের বুকে বসবাস করেও এই মানুষগুলো পশ্চিমা রীতিনীতিকে পুরোপুরি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রথা ও অনুশাসনে জীবনযাপন করছে।

এখানেই এসে এক বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন তৈরি হয়। আফগানিস্তানে নারী স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ধোঁয়া তুলে আমেরিকা যেমন বারবার আগ্রাসী হস্তক্ষেপ করে এবং পশ্চিমা মিডিয়াগুলো যেভাবে মিথ্যাচারের বিশাল পসরা সাজিয়ে বসে, ঠিক সেই তারাই আবার নিজেদের দেশের বুকে ইহুদি নারীদের ওপর আরোপিত এই কঠোর বিধানগুলোর বেলায় একেবারে নিশ্চুপ থাকে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এই ইহুদি সম্প্রদায়ের নিজস্ব বিচারকার্য পরিচালনার জন্য সেখানে স্বাধীন ধর্মীয় আদালত রয়েছে, রয়েছে পুলিশের মতো নিজস্ব শক্তিশালী টহল বাহিনী। তারা চাইলে নিজেদের বিচারিক ক্ষমতাবলে যেকোনো ব্যক্তিকে আটক করে রাখারও পূর্ণ এখতিয়ার রাখে। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, তথাকথিত নিরাপত্তার খোঁড়া যুক্তিতে খোদ মার্কিন প্রশাসনই তাদের এসব সমান্তরাল ও স্বাধীন ব্যবস্থা পরিচালনার আইনি বৈধতা দিয়ে রেখেছে!

এই পশ্চিমা দ্বিচারিতার চাইতেও বেশি প্রকট আমাদের দেশের তথাকথিত হলুদ মিডিয়া, কথিত নারীবাদী ও সুশীল সমাজের কপটতা। ইমারাতে ইসলামিয়ায় যখন শরয়ি আইন বাস্তবায়নের কথা আসে, তখন এই সুশীল সমাজ ও মিডিয়াগুলো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতে একেবারে মরিয়া হয়ে ওঠে। আফগান নারীদের অধিকার আদায়ের নামে তারা প্রতিনিয়ত টকশো, সেমিনার ও প্রেস ব্রিফিংয়ের ঝড় তোলে। আধুনিক বিশ্ব, ক্রীড়াঙ্গন ও মূলধারার সংস্কৃতি থেকে আফগান নারীদের দূরে থাকার কথা বলে তারা রাতদিন কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন দেয় এবং ইসলামী অনুশাসনকে ‘উগ্রবাদী চিন্তাভাবনা’ ও ‘পশ্চাৎপদতা’ আখ্যা দিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে। অথচ সেই একই সুশীল সমাজ ও মিডিয়া যখন তাদের ভাষায় তথাকথিত “ইহুদি নারীদের ওপর হওয়া এই প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত ধর্মীয় নিপীড়ন” দেখে, তখন রহস্যজনকভাবে তারা মুখে কুলুপ এঁটে রাখে। তাদের ভাষায় “ইহুদি নারীদের এই চরম পশ্চাৎপদ জীবনযাপন” তাদের কপালে সামান্য চিন্তার ভাঁজও ফেলতে পারে না, কিংবা তাদের ‘পশ্চিমা আধুনিকতার আলোয়’ ফিরিয়ে আনার কোনো মহান ব্রতও তারা গ্রহণ করে না।

তাদের এই নীরবতার কারণটি আসলে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। ইমারাতে ইসলামিয়া ও শরয়ি আইনের বিরুদ্ধে মনগড়া মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা চালালে খুব সহজেই বিদেশি প্রভুদের সুনজর ও করুণা লাভ করা যায়। অন্যদিকে ইহুদিদের বাস্তব চিত্র নিয়ে সত্য সংবাদ প্রকাশ করলে সেই পশ্চিমা প্রভুরা রুষ্ট হবেন, এই ভীতিই তাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। নীতি ও আদর্শের বুলি আওড়ানো এই সুশীল সমাজ ও মিডিয়ার দ্বিচারিতা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। সময়ের কাছেই এই অমোঘ প্রশ্ন তোলা থাকল; দেখা যাক, আগামী দিনগুলোতে তাদের এই নির্লজ্জ দাসত্বের আর কী কী রূপ উন্মোচিত হয়।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধগত এক বছরে দেশে ফিরে আসা প্রায় ২০ লাখ আফগান শরণার্থীর পুনর্বাসন করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া