ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলের নির্মম আগ্রাসন থামাতে ব্যর্থ জাতিসংঘের দায়সারা বিবৃতি

0
0

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) ০৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার এক প্রতিবেদনে স্বীকার করেছে যে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরের জেনিন, নূর শামস ও তুলকার্ম শরণার্থী শিবিরে যে ‘আয়রন ওয়াল’ সামরিক অভিযান চালায়, তা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের জোরপূর্বক এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে, যা ‘জাতিগত নির্মূল’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ শামিল। অথচ এই প্রতিবেদনের পরও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধু একটি ‘দায়সারা বিবৃতি’ দিয়ে ক্ষান্ত হয়েছে তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানে ৩৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ জেনিন শিবিরের ৫২ শতাংশ, নূর শামসের ৪৮ শতাংশ এবং তুলকার্মের ৩৬ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অভিযানে ১০২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের মধ্যে ২১ জনই শিশু।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেছে, ‘আয়রন ওয়াল’ অভিযান যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে যত বেশি সম্ভব ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পথ তৈরি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের আরো লঙ্ঘন।

জাতিসংঘ এই প্রতিবেদনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নির্মূল’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে উল্লেখ করলেও, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ইসরায়েল এই প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘পক্ষপাতমূলক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে, অথচ জাতিসংঘ শুধু একটি ‘দায়সারা বিবৃতি’ দিয়ে ক্ষান্ত হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এই নির্মম আগ্রাসন ও আমেরিকার অন্ধ সমর্থনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের এই নিষ্ক্রিয়তা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তাদের দুর্বল প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ। ফিলিস্তিনি জনগণের রক্তের বিনিময়ে লেখা এই দায়সারা বিবৃতি কোনো কাজেই আসেনি। যতদিন না জাতিসংঘ ইসরায়েলের ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে এবং আমেরিকার এই অপরাধে সহযোগিতা বন্ধ করবে, ততদিন ফিলিস্তিনিদের ওপর এই নির্যাতন অব্যাহত থাকবে।


তথ্যসূত্র

1. West Bank: UN rights report warns of forcible displacement from three refugee camps
– https://tinyurl.com/zm746htw

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধজাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইউরোপসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে আগ্রহী ইমারাতে ইসলামিয়া: মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ