নারী নীতির পশ্চিমা মানদন্ড প্রত্যাখ্যান, ইসলামি মূল্যবোধ ও আফগান ঐতিহ্যের ভিত্তিতে ইমারাতে ইসলামিয়ার নারী নীতি দেখার আহ্বান আমীর খান মুত্তাকী হাফিযাহুল্লাহ’র

0
2

আফগানিস্তানের নারীনীতিকে পশ্চিমা মূল্যবোধের মানদণ্ডে বিচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায় ও অযৌক্তিক উল্লেখ করে আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক ও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নারী শিক্ষা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন মাওলানা আমির খান মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ।

নারী ও মেয়েদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আফগান সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আফগানিস্তানের নিজস্ব সংস্কৃতি, সামাজিক বাস্তবতা ও ইসলামী মূল্যবোধ বিবেচনা না করে পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এসব বিষয় মূল্যায়ন করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, “নারীদের সঙ্গে আচরণের বিষয়টি পশ্চিমা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চশমা দিয়ে দেখা উচিত নয়। ইসলামী মূল্যবোধকে বিবেচনায় নিতে হবে।”

মাওলানা আমির খান মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ জানান, বর্তমানে আফগানিস্তানের স্কুল ও মাদরাসায় ৩০ লাখের বেশি মেয়ে পড়াশোনা করছেন। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত মেয়েদের আধুনিক বিষয়ও পড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে এবং তাদের শিক্ষাদানে নারী শিক্ষকরাও যুক্ত রয়েছেন।

বর্তমানে আফগানিস্তানে নারী শিক্ষক ও চিকিৎসকের ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও যেন এমন সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আফগান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

আফগানিস্তানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেন মাওলানা আমির খান মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ। এসব নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিক ভিত্তি নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ বলেন, “এটি আফগানদের প্রতি অন্যায়। এটি একটি অজুহাত। আফগানিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ নেই।”

তিনি বলেন, আফগানিস্তান প্রায় ৪০ বছর ধরে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গেছে। বিশেষ করে আমেরিকা ও ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন ২০ বছরের যুদ্ধের তুলনায় বর্তমানে দেশটির পরিস্থিতি অনেক ভালো।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং আফিম চাষ নির্মূলের বিষয়ও তুলে ধরেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, আফগানিস্তানে ঘটে যাওয়া এসব ইতিবাচক পরিবর্তনেরও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।

বৈদেশিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায়।

মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ বলেন, “আঞ্চলিক ও পূর্বাঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনীতি, রাজনীতি, পারস্পরিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের সম্পর্ক অনেক এগিয়েছে।” ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গেও আফগানিস্তানের যোগাযোগ ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

বেলজিয়ামে আফগান অভিবাসীদের নিয়ে সাম্প্রতিক কারিগরি আলোচনাকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন মাওলানা আমির খান মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ। এ ধরনের যোগাযোগ ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আফগান সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইমারাতে ইসলামিয়াকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়াকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইতিবাচক ও স্বাভাবিক সম্পর্ক চায়। তবে আফগানিস্তানে কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি গ্রহণ করা হবে না।

তিনি বলেন, আফগানিস্তান একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তবে আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে আফগানিস্তানে কতটা আগ্রহী, সে বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই।

দেশে বিপুলসংখ্যক আফগানের প্রত্যাবর্তনের বিষয়েও কথা বলেন মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ। তিনি জানান, প্রায় ৬০ লাখ আফগানের প্রত্যাবর্তন দেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তবে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ বলেন, দেশে ফেরা অনেক আফগান দক্ষ কর্মী। তারা ইতোমধ্যে দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে শুরু করেছেন।

আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে চায় এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে আগ্রহী।


তথ্যসূত্র

1. متقي د اسلامي امارت له تګلارو د دفاع او له نړۍ سره د اړیکو د پیاوړتیا غوښتنه وکړه
– https://tinyurl.com/3jp638vz

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধগাজার খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে সন্ত্রাসী ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ দুই জন শহীদ
পরবর্তী নিবন্ধগাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসন ও গণহত্যা চালাতে সন্ত্রাসী ইসরায়েলকে আরও ৪০ হাজার বোমা দিচ্ছে আমেরিকা