
সোমালিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় হিরান প্রদেশে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছেন আশ-শাবাব যোদ্ধারা। শুক্রবার ৯ অক্টোবর ভোরে তীব্র আক্রমণের মাধ্যমে প্রাদেশিক রাজধানী বেলেদওয়াইনের মাত্র ৩০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কৌশলগত বসতি হীসকে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন দলটির যোদ্ধারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হীসকে বসতিটি ছিল মোগাদিশু প্রশাসনের ন্যাশনাল আর্মি (SNA) এর একটি বড় সামরিক ঘাঁটি। গত ২ আগস্ট তিদান শহরের পতনের পর পিছু হটা বিপুল সংখ্যক মোগাদিশু সেনা এখানে আশ্রয় নিয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুক্রবার ভোরে হীসকের উপকণ্ঠে ঝানশি গাদাফার এলাকা থেকে হামলা শুরু করেন আশ-শাবাব যোদ্ধারা। প্রথমে একজন ইস্তেশহাদী মুজাহিদ গাড়ি বোমা দিয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটান, এরপর আশ-শাবাবের অন্য যোদ্ধারা তীব্র সম্মুখ যুদ্ধ শুরু করেন। এতে মোগাদিশু বাহিনীর অসংখ্য সৈন্য হতাহতের শিকার হয় এবং অন্য সৈন্যরা জীবন বাঁচাতে তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। তীব্র আক্রমণের ফলে মোগাদিশু বাহিনীর এই পলায়নের পর আশ-শাবাব যোদ্ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেন।
বসতির উপর এই নিয়ন্ত্রণ বেলেদওয়াইন-তিদান করিডোরে আশ-শাবাবের জন্য আরেকটি বড় বিজয়। এই করিডোরটি হিরানের পূর্বাঞ্চল থেকে প্রাদেশিক রাজধানী বেলেদওয়াইনের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়ক। গত ২ আগস্ট তিদান শহরের পতনের পর হীস ছিল এই সড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হীসকের পতনের মাধ্যমে আশ-শাবাব বেলেদওয়াইন শহরের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিরানে মোগাদিশু বাহিনীর ঘাঁটি, সরকারি স্থাপনা এবং সরকার-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর উপর আশ-শাবাবের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।


