উত্তর প্রদেশে গত দুই মাসে পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ৭০ মুসলিম গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত, গ্রেপ্তার অন্তত ১৫২

0
0

ভারতের উত্তর প্রদেশে গত দুই মাসে (আগস্ট ও সেপ্টেম্বর) পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ৭০ জন মুসলিম আহত হয়েছেন। তাদের ৫২ জনের বিরুদ্ধে গরু জবাই বা গবাদিপশু চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে। রাজ্যের ২৭টি জেলায় এসব ঘটনা ঘটে।

একই মাসের মধ্যে অন্তত ১৫২টি মুসলিম আটকের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৭ নারীকে মাংস সংশ্লিষ্ট মামলায় আটক করা হয়েছে, এছাড়া হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনার অভিযোগে কয়েকজন মুসলিম পুরুষকে আটক করা হয়।

সম্প্রতি সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের এক প্রতিবেদনে তথ্যসমূহ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা মুসলিম বিদ্বেষের শিকার হয়ে অন্তত চার মুসলিম নিহত হয়েছেন, এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, গত ৫ আগস্ট শামলি এলাকায় পুলিশের গুলিতে এক মুসলিম নিহত হয়েছেন, একটি ঘটনায় কথিত ‘লাভ জিহাদ’ এর প্রতি সমর্থন বা সহযোগিতার অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষককে গুলি করে হত্যা করেছে উগ্রপন্থীরা। এছাড়া হিন্দুত্ববাদী স্লোগান ‘জয় শ্রী রাম’ উচ্চারণে অস্বীকার করায় ১২ বছর বয়সী এক বালককে মারধর করা হয়েছে।

নথিভুক্ত ১৪টি হামলার ঘটনায় কোনও অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অপরদিকে দুটি ঘটনায় ভুক্তভোগী মুসলিমদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৪৯ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন, যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের পরিসংখ্যানের তুলনায় বেশি।

মুসলিমবিরোধী বক্তব্য

প্রতিবেদনে গত দুই মাসে রাজ্যের নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের অন্তত ২১টি মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি বক্তব্যই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনও নেতা বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রমাণ মেলে নি।

মুসলিমদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই মাসে ৯টি পৃথক ঘটনায় মুসলিমদের অন্তত ৩৪টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সাহারানপুরে এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো মসজিদ ধ্বংস করা,  কৌশাম্বীতে একটি কারখানায় বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনার পর একটি পরিবারের মালিকানাধীন আটটি স্থাপনা পাঁচ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার ঘটনা।

ভোটার তালিকা থেকে মুসলিমদের নাম বাতিল করা

২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তর প্রদেশের ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে উক্ত প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এর নামে এর সময় মুসলিম ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে জোরালো অভিযোগ ওঠেছে। সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ নাম কমেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/35pubbcy

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে সোমালিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইথিওপিয়া